
মুহাম্মদ হাফিজ, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা সদর আগড়দাড়ী ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের ২০১৩ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ জনগণের উপর লাঠিচার্জ, ভোটকেন্দ্রে বাঁধাসহ চাঁদাবাজ, লুঠপাটসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারে পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে।
৫ নভেম্বর সাত সকালে পোস্টারগুলো দেখে অবাক হয়েছে এলাকাবাসী।
আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের একাংশ যাদের নামে পোস্টারে দেওয়া হয়েছে তারা হলো মেম্বার শামসুর রহমান,বাবুল, সবুজ (ছাত্রলীগ), মুহুরি আনারুল (পিতা: মৃত আ. খালেক), ডা. আমানুল্লাহ (পিতা: আ. হামিদ)।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা শহরের কদমতলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখা। নিজেদের আবেগ অনুভূতি নিয়ে এই রায়ের প্রতিবাদ জানাতে উপস্থিত হয় সাঈদীভক্ত হাজার হাজার তৌহিদী জনতা। বিক্ষুব্ধ মানুষের ঢল নামে। হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ শেষে মিছিলসহকারে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি শহর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। অন্য দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সকল সন্ত্রাসীকে একত্র করে ইসলামী আন্দোলনের সূর্যকে চিরতরে নিভিয়ে দেয়ার জন্য পুলিশের ছত্রছায়ায় ওঁৎ পেতে থাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। মিছিলটি সার্কিট হাউজ মোড়ে পৌঁছানো মাত্র শুরু হয় অবিরাম গুলিবর্ষণ। যে বিজিবি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে, অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে যে পুলিশ বাহিনী দিন-রাত পরিশ্রম করে, সন্ত্রাস দমনের জন্য যে র্যাবের প্রতিষ্ঠা- সেই আইন রক্ষার বাহিনীই ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্যাতন চালিয়েছিল। একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তৌহিদী জনতা। পিচঢালা রাজপথ রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় লালবর্ণ ধারণ করে। মূত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে হয় দীর্ঘতর। আহতদের তালিকা বাড়তে থাকে। কাকে রেখে কাকে হাসপাতালে নেবে এ চিন্তায় অনেকে বেসামাল হয়ে পড়ছিল। পুলিশের এই নির্মমতায় একে এক ঝরে পড়ে ১০টি তাজা প্রাণ। গুলিবিদ্ধ হয় প্রায় অর্ধশতাধিক। গুলিবিদ্ধদের টেনেহিঁচড়ে গ্রেফতার করে ফেলে রাখা হয় রাস্তার ওপরে। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন- শশাডাঙ্গার শিবিরের সাথীপ্রার্থী আলি মোস্তফা (২০), হরিশপুরের শিবিরকর্মী ইকবাল হাসান তুহিন (২০), খানপুরের জামায়াতকর্মী সাইফুল্লাহ (২০), সদরের ঘোনার জামায়াতকর্মী রবিউল ইসলাম (৩০), বকেরডাঙ্গার জামায়াতকর্মী শাহিন (২০), মোশরাফ হোসেন (৩০), ইমদাদ হোসেন (৩০), ঘোনার জামায়াতকর্মী আনারুল ইসলাম (৩০) ও ইকবাল। গুলিবিদ্ধ হয়ে চিরতরে পঙ্গু হন সাবেক সিটি কলেজ সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুল আহাদ, শিবিরের সাথী মুস্তাকিম বিল্লাহ, চোখ হারান শিবিরকর্মী আরিফুল ইসলাম এবং গুলিবিদ্ধ হন অর্ধশতাধিক জামায়াত-শিবির কর্মী।