
দিপু মন্ডল প্রতিনিধি যশোর
যশোরের মণিরামপুরে সরকারি ত্রাণের পাঁচশ’ ৪৯ বস্তা চাল চুরির মামলায় আলোচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অন্য আসামিরা হলেন—মণিরামপুর উপজেলার বাঙ্গালপুর গ্রামের বিলায়েতের ছেলে শামীম হোসেন, জুড়ানিপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস ও হাকোবা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে আজিম হোসেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০২০ সালের ৪ এপ্রিল খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে যশোরের মণিরামপুরের উদ্দেশে পাঁচ ট্রাক সরকারি ত্রাণের চাল আসে। তবে এর মধ্যে এক ট্রাক চাল স্থানীয় ভাই ভাই রাইস মিলে পাঠানো হয়, যা গোডাউনে লোড করা হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচশ’ ৪৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে এবং মিল মালিক ও ট্রাক ড্রাইভারকে আটক করে। চালের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এসআই তপন কুমার সিংহ বাদী হয়ে কালোবাজারির মাধ্যমে চাল মজুদের অভিযোগে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন।
এই ঘটনায় আটক দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুসহ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করা হয়। তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে যশোর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর বাচ্চু আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তিনি ও তিন সহযোগী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু শুধু চাল চুরির মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন না, তিনি সেই সময়ের মণিরামপুরের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্যের ছত্রছায়ায় নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ছাড়াও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এমপির প্রশ্রয়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতির ছত্রছায়ায় দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু এই চারজন নয়, এর পেছনে থাকা সব রাঘব বোয়ালদের আইনের আওতায় আনা হোক।