1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
গ্রামের বিদ্রোহ - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাগমারায় সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র ​সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিনব কায়দা: মলদ্বারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৫৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় শিবির সভাপতি ​সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন। সাতক্ষীরায় ৩০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ শীর্ষ মাদক কারবারি পল্টু গ্রেপ্তার রাসায়নিক দিয়ে কদবেল পাকানোর দায়ে ফল ব্যবসায়ীকে জরিমানা বিরামপুরে দুই কিলোমিটার হেঁটে ফুটপাতের দখল দেখলেন ইউএনও, ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা দামুড়হুদায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে যুব দিবসে গাছের চারা বিতরণ ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ স্থাপন

গ্রামের বিদ্রোহ

আর এম করিমল্লাহ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ২১১ বার পঠিত

গ্রামের বিদ্রোহ
_আর. এম. কারিমুল্লাহ

গ্রামটার নাম মঙ্গলপুর,গ্রামের ঠিক প্রান্তে, নদীর কোলঘেঁষে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এক প্রকাণ্ড মাঠ। মাঠটির ঠিক মাঝখানে নয় তবে রাস্তা থেকে খানিক ভেতরেই দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি ছোট্ট ছোট্ট পরিবার কে নিয়ে গ্রামটি । গাছের ডালপালা মেলে ছায়া দিতে দিতে সে ভুলেই গেছল বোধহয় সে এদের কেউ নয়! সেই ছায়ার গভীরে জন্ম নিত কত শত নাম না জানা পাখির বাসা, কাঠবিড়ালির সংসার, আর কত না অদেখা প্রাণীর স্বর্গ।

গ্রামের মোড়ল সুবীর বাবু, সবাই তাকে বড়ো বাবু বলে ডাকে, লোকে যেমন ভয় পাই তেমনি সম্মান ও করে , কিন্তু যেখানে অন্যায় খারাপ কাজ দেখে সেখানে প্রাণ পনে ছুটে যাই, খুব একটি সাদা সিধে জীবন যাপন করে, সব সময় পরনে সাদা পাঞ্জাবি নীল পায়জামা, পায়ে সবুজ রঙের মোজা, হাঁটুর উপরে ফিতা দিয়ে বাঁধা।

সক্কাল সক্কাল- মাহমুদুল এর বাড়ি গিয়ে বলল- তোরা নাকি গ্রাম ছেড়ে চলে যাবি?
_ হ্যাঁ বড়ো বাবু…
_ গ্রাম ছাড়তে মায়া হয় না!
_ হয় বই কি? খুউব হয় , কিন্তু কি করবো বড়ো বাবু? পেটের জ্বালায় দু মুঠো ভাতের জন্য যেতে হচ্ছে…।
_ আমাদের ভুলে যাবি না তো?
_ না না বড়ো বাবু , কি যে বলেন! সব সময় মনে থাকবে, সব সময় মনে থাকবে…।
_ আচ্ছা বেশ , ভালো ভাবে যা তাহলে! তা তোদের জিনিস পত্র?
_ জিনিস পত্র তো তেমন নেই, যা কটা আছে প্রয়োজনীয় ছাড়া আপনাদের থাকবে …।
_ ঠিক আছে….।
এরপর গ্রামের সকল ছেলে মেয়েরা এসে জনে জনে জিজ্ঞেস করতে থাকে… মাহমুদুল দা, শুনলাম গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছ?
_ হ্যাঁ রে…
_কেন দাদা , আমাদের জন্য তোমার মন খারাপ করবে না বুঝি?
_ করবে না কেন! সব সময় করবে , তাছাড়া আমি তো আসবো তোদের দেখতে , আমার এই সোনার গ্রাম টি দেখতে….।

স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে কে নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছিল ….. গ্রামের এক কোনে..।

সময় যতই বাড়তে লাগল ততই মন খারাপের কারণ হল তার। বাবা মা কে হারিয়েছে ছোট্ট বেলায়, জন্ম বেড়ে উঠা সমস্ত কিছুই গ্রাম কে ঘিরেই, তাকে যেন ছেলের মত স্নেহ করেছে গ্রামটি….. মায়ের ভালোবাসা বুঝতে দেয়নি কখনো…..।আজ ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে।
আজ শুধু ভাবছে আর ভাবছে…মনে করছে অতীত দিনের ইতিহাস……… অনেক সময় গল্প করতে করতে স্মৃতি খেয়ায় ভেসে যেত কোনওদিন তাদের কৈশোরে যৌবনের উদ্দামতার দিনগুলিতে কিম্বা ছেলেবেলায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাঁ ঘরের গোঠের গরু-ছাগল সেই ছায়ায় বিশ্রাম নিত কোনও নিরীহ গ্রীষ্মের দুপুরে। এই ভাবে কেটে যাচ্ছিল নিস্তরঙ্গ অনাড়ম্বর দিনগুলি।

গ্রামটি যে শুধু প্রকৃতির অংশ ছিল তা নয়, বরং সে ছিল এক সমাজের নীরব রক্ষক, এক জীবন্ত ইতিহাস—যার ডালে বোনা ছিল স্মৃতি, যন্ত্রণার রক্ত, ভালোবাসা আর আত্মত্যাগ।

অবশেষে যেতে হল গ্রাম ছেড়ে , এক লম্বা সরু পথ ধরে চলে যাচ্ছে , এমন সময় এক প্রবল বেগে বৃষ্টি নামল , আকাশের ঘন কালো মেঘ, সে তৎক্ষণাৎ অনুভব করল যেন বিদ্রোহ শুরু করেছে।।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park