
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে চুরির অভিযোগে আটকের পর দুই দিন নিখোঁজ থাকা মনির উদ্দিন (১৮) নামে এক যুবকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে আটকে রেখে বৈদ্যুতিক শর্টসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টাউনশিপ এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে মনিরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
নিহত মনির উদ্দিন দক্ষিণ রাজঘাট এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত আলী আজগরের ছেলে।
মনিরের বোন সাবেকুন নাহার বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মনির ও তার দুই সহযোগী আকিব ও ইসমাইল ইলেকট্রনিক পণ্য চুরির উদ্দেশ্যে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন বলে তারা জানতে পারেন। পরে আকিব ও ইসমাইল সেখান থেকে বেরিয়ে এলেও মনিরকে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাবেকুন নাহারের অভিযোগ, এরপর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে মনিরের খোঁজ নেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তার আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর সোমবার সকালে কেন্দ্রের কর্মচারীদের মাধ্যমে একটি লাশ পাওয়ার খবর পান তারা। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে লাশটি মনিরের বলে শনাক্ত করা হয়।
মনিরের বন্ধু ইমন বলেন, চুরির ঘটনায় মনিরকে আটকের পর দুই দিন ধরে নিখোঁজ রাখা হয়েছিল। পরে কর্মচারীদের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে তাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মনিরকে নির্যাতন বা হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে একটি লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মনিরকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে—স্বজনদের এমন অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।