1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
ধর্ষিতা মেয়ে প্রেগন্যান্ট হলে এবরশনের বিষয়ে ইসলাম কি বলে? উস্তাদ সুলতান নাঈম । - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত পলিটেকনিকে রেকর্ডসংখ্যক ভর্তি আবেদন, ৪০ হাজার আসনের বিপরীতে ফরম তুলেছেন ৮০ হাজার শিক্ষার্থী দুর্গাপুরে খিঁচুনিতে কাতর ৩ বছরের রায়হানা,চিকিৎসায় ডেপুটি স্পিকারের সহায়তা চান পরিবার দেবীগঞ্জে কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে যুবলীগ নেতাসহ আটক ৪ সেন্টমার্টিনে নিম্ন আয়ের পরিবারকে কোস্ট গার্ডের ত্রাণ ​বেলকুচিতে ১১ দলীয় জোটের লং মার্চ উপলক্ষে ইউএনও ও থানায় জামায়াতের অনুলিপি প্রদান সফাত উল্লাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য হলেন শিক্ষানুরাগী আনছার আলম কোরেশী। জমিতে স্প্রে করতে গিয়ে হিট স্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু পাবনায় ডিবি পুলিশের নতুন ওসি হিসেবে আব্দুস ছালামের দায়িত্ব গ্রহণ, অপরাধ দমনে জোরদারের প্রত্যাশা উল্লাপাড়ায় যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম রতন গ্রেপ্তার

ধর্ষিতা মেয়ে প্রেগন্যান্ট হলে এবরশনের বিষয়ে ইসলাম কি বলে? উস্তাদ সুলতান নাঈম ।

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮১ বার পঠিত

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার

ধর্ষিতা মেয়ে যদি গর্ভবতী হয়ে যায় তাদের সেই গর্ভের সন্তান এবরশনের বিষয়ে ইসলাম কি বলে? ইসলামের কি বিধান?

প্রথম কথা হলো, গর্ভপাত বা এবরশন একটা মানবতাবিরোধী কাজ, বিনা ওজরে গর্ভপাত ঘটানো অপরাধ। ভ্রুনের মাঝে যখন রুহ সঞ্চার হয়, তখন তা করা হারাম, কেবল মাত্র গর্ভ কন্টিনিউ করলে মায়ের প্রাণহানি বা অঙ্গহানি ঘটার প্রবল ধারণা হলেই ফুকাহাগন বিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শের বিবেচনায় এর অনুমতি দিয়েছেন।

রুহ সঞ্চার হওয়ার আগেও বিনা ওজরে গর্ভপাত ঘটানো না-জায়েজ। তবে কিছু যৌক্তিক ওজরের বিবেচনায় ফুকাহাগন অনুমতি দিয়েছেন।

ধর্ষণ একজন নারীর জন্য বিশাল মানসিক আঘাতের কারণ, ধর্ষকের সন্তান পেটে ধারণ অনেক সময় আরও বড় মেন্টাল ট্রমার কারণ হয়। অনেক সময় তা মেজর সাইকিয়াট্রিক অসুস্থতায় রূপ নেয়। পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার অনেক সময় ধর্ষিতার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে। কিছু স্টাডিতে ধর্ষণজনিত গর্ভাবস্থার পর সৃষ্ট মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে মেডিকেল এবরশন পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতির কারণে ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর নেগেটিভ প্রভাব মেডিকেল সায়েন্স দ্বারা প্রমাণিত।

কাজেই ধর্ষণজনিত গর্ভাবস্থায় একজন নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেগেটিভ প্রভাব বিবেচনায় একজন দ্বীনদার মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ভিত্তিতে ভ্রুনের বয়স চারমাস পূর্ণ হওয়ার আগে এবরশন করানো যেতে পারে। এ ধরণের ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি এবরশন করানো যায়, ততই নারীর স্বাস্থ্যের জন্য এবরশনজনিত ঝুঁকির পরিমাণ কম।

তবে সবচেয়ে উত্তম হলো, ধর্ষিতা হওয়ার পর পরই ৭২ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই ধর্ষিতা নারীকে ইমারজেন্সী পিল খাইয়ে দেয়া যেন গর্ভাবস্থা এড়ানো যায়।
তবে চারমাস পূর্ণ হয়ে গেলে মায়ের প্রাণহানি বা অঙ্গহানি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছাড়া এবরশন করানো হরাম। তবে এক্ষেত্রে সিরিয়াস মেন্টাল অসুস্থতা একটা ওজর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে একজন দ্বীনদার মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ সাপেক্ষে।

যদি গর্ভস্থ ভ্রুনের বয়স চার মাস হয়ে যায় তাহলে সেটা কে নষ্ট করা বা গর্ভপাত করানো কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই। আর যদি ভ্রুনের বয়স চার মাস থেকে কম হয় এবং দ্বীনদার, অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তার এ কথা বলে যে,বাচ্ছা জন্ম নিলে নিশ্চিত বা প্রবল ধারণা অনুযায়ী মায়ের প্রাণ নাশের বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে অথবা যদি মার স্বাস্থ্য গর্ভাবস্থা সহ্য করতে না পারে বা প্রথম সন্তানকে পরিচর্যা সহ শিক্ষা দিতে অসুবিধার আশঙ্কা থাকে এবং সঠিক পরিচর্যা করতে পারবে না বলে আশংকা হয় তাহলে গর্ভপাত করার সুযোগ রয়েছে, চাইলে গর্ভপাত করাতে পারবে।

আর যদি রিজিকের আশংকায় এরূপ করে তাহলে গর্ভের ভ্রুন নষ্ট করা জায়েয হবে না। যদিও গর্ভের বয়স চার মাসের চেয়ে কম হয়। আর যদি উল্লেখযোগ্য কোনো অতিব প্রয়োজন না দেখা দেয় তাহলে চার মাসের কম বয়সের ভ্রুন কেও নষ্ট করা বা গর্ভপাত করানো জায়েয হবে না।

যিনা হোক বা ধর্ষণ কোনটিতেই যিনাকার বা ধর্ষকের দিকে বাচ্চার নসব সাবিত হয় না। সে তার মায়ের দিকে সম্বন্ধিত হবে, মা তার ওয়ারিস হবে, সে মায়ের ওয়ারিস হবে।

ধর্ষককে তো আইনের আওতায় আনা জরুরী, জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। তখন এই সন্তানের লালনপালনের দায়ভার রাষ্ট্রের। কুড়িয়ে পাওয়া বাচ্চার মতো।

যিনার ক্ষেত্রে গর্ভধারণ হলে ঐ মেয়েকে যদি ছেলে বিয়ে করে এ ব্যাপারে পরে ঐ ছেলে তার দিকে সম্বন্ধিত হবে এ ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফা রঃ এর একটা কওল আছে, “এতে আমি কোন অসুবিধা দেখি না।”

অর্থাৎ যিনার কারণে গর্ভধারণ হলো, পরে উভয়ের মাঝে বিয়ে হলো, বিয়ের ৬মাস পর সন্তান হলো, স্বাভাবিকভাবেই নসব সাবিত হবে। যিনার কারনে বাচ্চা ও ধর্ষণের কারনে বাচ্চার আহকামের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park