
( অহংকারী ঔদ্ধত্যের অবসান ঘটিয়ে রাতারাতি সরকারে বিজেপি)
বেবি চক্রবর্ত্তী:– বিপুল জনসমর্থনের জোয়ারে ভেসে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিনের শাসন শেষে রাজ্যের ক্ষমতার মসনদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হল তৃণমূল কংগ্রেস। রাতারাতি পরিবর্তনের এই ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে তাঁদের সংগঠনগত ভিত, আর সেই সুযোগে দৃঢ়ভাবে উঠে এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি, যারা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে অনেকটাই এগিয়ে।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং আলোচিত ফলাফল এসেছে দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। বহুবারের জয়ী এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে এই কেন্দ্রে পরাজিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ফলাফল শুধু একটি আসনের পরিবর্তন নয়, বরং তা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে গভীর প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জয়-পরাজয়ই মূলত পরিবর্তনের স্রোতকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরেছে।
১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা লাভের পর বা ক্ষমতা হস্তান্তরের পর চলেছিল দীর্ঘ বছর কংগ্রেসের শাসন। কোটি মানুষের রক্তের ওপর হয়েছিল দেশ বিভাজন ক্ষমতার রাজনীতি। এরপর ৩৪ বছর চলেছিল বামফ্রন্টের শাসন। ২০১১ সালে এই বামফ্রন্ট সরকার কে সরিয়ে মানুষ সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে। এরপর ২০২৬ সালে ৪ঠা মে রাতারাতি বদলে গেল ঔদ্ধত্যের শাসন ব্যবস্থা। এই জনতা বেঁছে নিয়েছে বিজেপির পদ্ম ফুল কে। ঘাস ফুলের স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের অবসান হল।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে—উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে দক্ষিণবঙ্গের শহর ও গ্রামাঞ্চল—প্রায় সর্বত্রই গেরুয়া ঝড়ের দাপট স্পষ্ট। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয় প্রমাণ করে যে জনমতের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। নির্বাচনের রাখাও নতুন সরকারের কাছে বড় পরীক্ষা।
এই নির্বাচনী ফলাফল নিছক একটি সরকার পরিবর্তন নয়; এটি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘদিনের একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন শক্তির উত্থান রাজ্যে। ২৫ শে বৈশাখ শপথ গ্রহণ বাংলায় নব বিজেপি সরকারের। এবার ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত একটাই স্পষ্ট—বাংলার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়, যার দিকে নজর রাখছে গোটা দেশ। এযেন জনপ্রতিনিধির জন সেবায় বদলে তোষণের রাজনীতি কে সরিয়ে দিয়ে সাধারণ জনগণ গণতন্ত্রের ক্ষমতা প্রমাণ করে দিল প্রয়োজনে গদিচ্যুত করাও সম্ভব।