
রুবেল আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার,সিলেট:
সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট এর পক্ষে ইফতেখার আহমেদ হেলাল, (চেয়ারম্যান: গোয়াইনঘাট প্রবাসী ট্রাস্ট, কেন্দ্রীয় কমিটি), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বরাবরে লিখিতভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার আওতাধীন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, আপনার নির্বাচনী এলাকার অধিনস্থ গোয়াইনঘাট উপজেলার সকল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই, প্রতি নিয়ত এলাকার সেবা প্রত্যাশিত লোকজনদেরকে হয়রানি করে যাচ্ছেন। নামজারী তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সেবা গ্রহীতা আসিয়া ২/৩ হাজার টাকা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ১০/১১ হাজার টাকা না দেয়া পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন না, নথিপত্র আটকিয়ে রাখেন। অনলাইনে দলিলের মূলকপি স্ক্যান করে দেওয়ার পরও ফোন দিয়ে সেবা গ্রহীতাকে অফিসে আসার জন্য কথা বলেন এবং টাকা দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাবৃন্দ চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা না দিলে নামজারী নথিপত্র বাতিলের প্রস্তাব পাঠান।
সম্মানিত মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আপনি সিলেট-৪ আসনে যোগদান হতে অদ্যাবধি সার্বিক সহযোগিতায় সিলেটের মানুষের নিকট অত্যান্ত গৌরবের আসনে রয়েছেন। আমরা জানি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সহযোগিতা করা, অথচ এখানে সেবা গ্রহীতারা সবচেয়ে বেশি হয়রানির স্বীকার হন। সেবা প্রত্যাশিরা ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার জন্য অফিসে গেলে অনলাইনের মাধ্যমে খতিয়ান নিবন্ধন করতে হয়, সেই নিবন্ধনকৃত খতিয়ান ইউনিয়ন তপশীলদারের মাধ্যমে সমন্বয় করতে বড় অংকের টাকা লাগে এবং ঐ অফিস সমূহের কম রেইটের খাজনা বেশি রেইটের ধাপে সমন্বয় করে অতিরিক্ত টাকা দাবী করেন, কর্মকর্তাবৃন্দ আরো বলেন অফিসে থাকা সহকারী অন্যান্য কর্মচারীদের সহিত যোগাযোগ করার জন্য।
সেবা গ্রহীতা গরিব, কৃষক যখন বেশি টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন, তখন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দ বলে তাদের কথায় রাজি হলে কম টাকায় খাজনার রশিদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন, যেমন বেশি রেইটে দেখালেন ৪৫,০০০/- (পয়তাল্লিশ হাজার) টাকা, কন্ট্রাকে আসলে সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে নিলেন ১৭,০০০/- (সতের হাজার) টাকা। পরবর্তীতে কম রেইটে দেখিয়ে রশিদ দিলেন ৪,১৮৯/- (চার হাজার একশত উননব্বই) টাকা।
উক্ত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাবৃন্দ দীর্ঘদিন হইতে দালালের মাধ্যমে টাকা পয়সা নিয়ে লেনদেন করে যাচ্ছেন। তাহারা একই কায়দায় বিভিন্ন ধরনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের অফিসে থাকা কর্মচারীদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে থাকেন। অন্যথায় তাহারা তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ না করে আটকে রাখেন। কোন ব্যক্তি যদি তার নিজ কাজে অফিস সমূহে অবস্থান করে কর্মকর্তাবৃন্দ উত্তেজিত হয়ে বদ-মেজাজে বলেন তাহারা সরকারী কাজে ব্যস্ত অন্য এক দিন আসেন, ঐ সেবা গ্রহীতা নিরূপায় হয়ে অফিসে থাকা অন্যান্য কর্মচারীদের সহিত আশ্রয় নিয়া টাকা পয়সার বিনিময়ে কাজ হাসিল করতে হয়। তাহাদের এহেন কার্যকলাপে এলাকাবাসী অতিষ্ট। এমতাবস্থায় দূর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ করিলাম। দায়িত্ব জ্ঞানহীন কর্মকর্তাবৃন্দ নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসা-যাওয়া করেন নাই। সেবা গ্রহীতাগণ তাদের জরুরী কাজকর্মে রেখে অফিসিয়াল সেবা নিতে এসে কর্মকর্তাদের না পাইয়া ঘন্টার ঘর ঘন্টা অপেক্ষা করে সেবা হতে বঞ্চিত হয়ে মনে কষ্ট নিয়ে চলে যায়। যাহার প্রমাণ অফিসের সি.সি ফুটেজ দেখলেই পাবেন।