
তাওহীদ হাসান পিয়াল – খুকৃবি
আজ ৫ জুন, ২০২৬ (শুক্রবার) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম রূপ, রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি এবং প্লাস্টিক দূষণের মতো মারাত্মক সংকটের মধ্য দিয়ে এবারের দিবসটি বিশ্বজুড়ে বিশেষ গুরুত্ব ও জরুরি বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর পরিবেশ দিবসের বৈশ্বিক আয়োজক দেশ আজারবাইজান এবং এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future.” (প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা: জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য)। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১.৫° সেলসিয়াস এর নিচে ধরে রাখার লক্ষ্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে স্মরণ করিয়ে দিতেই এবারের প্রচারণাকে তীব্র করা হয়েছে।
১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত স্টকহোম সম্মেলনে বিশ্ব পরিবেশের সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫ জুনকে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ পৃথিবী এখন মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও ভৌগোলিকভাব ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদী দাবদাহ, অনিয়মিত মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি খাত ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষা কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য র্যালি, সেমিনার, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং সচেতনতামূলক সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং তীব্র দাবদাহের কারণে পরিবেশগত ভারসাম্য বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বরং সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, প্লাস্টিক দূষণ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং নদী-জলাশয় রক্ষা করা। টেকসই ভবিষ্যতের জন্য দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।