
মাসুদ রানা, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাছখোলা বাজারের ক্রেতা, বিক্রেতা ও সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগ হোসেন। বাজারে আগত মানুষের বিশ্রামের জন্য নিজস্ব অর্থায়ন ও শ্রমে একটি টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা (মাচা) স্থাপন করা হয়েছে।
৩ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৫ টার সময় মাছখোলা বাজারে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে এই জনকল্যাণমূলক স্থাপনার শুভ উদ্বোধন করা হয়।সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও সেবামূলক এই মহৎ উদ্যোগের মূল কারিগর স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগ হোসেন।
দীর্ঘদিন ধরে মাছখোলা বাজারে আসা সাধারণ মানুষের একটি বড় দাবি ছিল একটি বসার বা বিশ্রামের জায়গার। বিশেষ করে হাটের দিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবীণ মানুষ, ক্রেতা ও বিক্রেতারা কেনাকাটার মাঝে একটু জিরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো স্থান না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতেন। জনসাধারণের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অনুদানের অপেক্ষা না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এগিয়ে আসেন সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগ হোসেন। তারা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে এবং নিজেরা সরাসরি কায়িক শ্রম দিয়ে এই স্থাপনাটি তৈরি করেছেন। মহৎ এই কাজের জন্য তারা কারও কাছ থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য বা চাঁদা নেননি।
উদ্যোগের শুরুতে এই যুবকেরা স্থানীয় কয়েকজন বাঁশঝাড়ের (বাগান) মালিকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং বাজারের এই জনকল্যাণমূলক কাজের বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। যুবকদের এই নিঃস্বার্থ ও মহৎ উদ্দেশ্য দেখে বাগান মালিকেরা সানন্দে এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বসার জায়গা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বাঁশ দিতে রাজি হন। বিনামূল্যে বাঁশ দিয়ে এই মহতী কাজে সহযোগিতা করেছেন মাসুম বিল্লাহ, মন্টু, রনি, ফজলুর রহমান, মশিউর রহমান ও শরিফুজ্জামান সপু।
স্থাপনাটি তৈরির প্রাক্কালে সরেজমিনে দেখা যায়,তারা স্থানীয় একটি বাঁশঝাড়ে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে বসার জায়গার অবকাঠামো তৈরির জন্য নির্দিষ্ট মাপে বাঁশ কাটছেন। এরপর নিজেদের কাঁধে করে সেই বাঁশ বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আসেন তারা। দক্ষ কারিগর ও নিজেদের মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে তারা একটি সুন্দর, মজবুত ও দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা বা মাচা তৈরি সম্পন্ন করেন; যেখানে বসে এখন থেকে ক্লান্তি দূর করতে পারবেন বাজারে আসা শত শত মানুষ।
ব্যতিক্রমী এই সেবামূলক কাজের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাছখোলা বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীরা যুবকদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, “বাজারে এসে একটু বসার জায়গা ছিল না, বিশেষ করে আমাদের মতো বয়স্কদের খুব কষ্ট হতো। ছেলেরা নিজেদের পকেটের টাকা এবং গায়ের শ্রম দিয়ে যে কাজটি করছে, তা সত্যিই অতুলনীয়। যারা বাঁশ দিয়ে সাহায্য করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।”
নিজেদের শ্রম, অর্থ এবং স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে কোনো সরকারি সাহায্য ছাড়াই সামাজিক বড় সমস্যার সমাধান করা যায়—সাংবাদিক মাসুদ রানা, সোহাগ হোসেন ও মাছখোলার যুবকদের এই উদ্যোগ তারই এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।