1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, শিক্ষকের ভাষা ঘিরে নতুন প্রশ্ন - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরিপুর সীমান্তে ১৬৫ বোতল মদ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ-ক্যানুলা ময়লার গুদামে, উঠছে নানা প্রশ্ন সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি

শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, শিক্ষকের ভাষা ঘিরে নতুন প্রশ্ন

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘অতিরিক্ত ক্লাস’-এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুর রহমানের দেওয়া প্রতিবাদলিপি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত ক্লাসের বৈধতা ও উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যার পাশাপাশি তাঁর প্রতিবাদী বক্তব্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের আর্থসামাজিক বাস্তবতাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে শিক্ষক শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে ‘অজপাড়া গ্রামের’ বিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় অনাগ্রহের সাতটি কারণ তুলে ধরেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোবাইল ফোন, নেশা, পিতা-মাতার আর্থিক অসচ্ছলতা, সঙ্গদোষ, অসময়ে খেলাধুলা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ভালো না হওয়া এবং অধিকাংশ অভিভাবক অশিক্ষিত ও অসচেতন হওয়া।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সমস্যা তুলে ধরতে গিয়ে তাদের পরিবারকে ‘আর্থিক অসচ্ছল’, ‘অশিক্ষিত’ কিংবা ‘অসচেতন’ হিসেবে এভাবে প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত? একজন শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বে থাকেন, তখন তাঁর বক্তব্যের ভাষাতেও কি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আত্মমর্যাদা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত নয়?

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সচেতন ও শিক্ষিত অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ান এবং সেখানে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন। বিপরীতে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তুলনামূলক কম অর্থে শিক্ষার্থীদের জন্য একই ধরনের নিবিড় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই তুলনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একটি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা দিয়ে তার সন্তানের শিক্ষার মান বা অভিভাবকের সচেতনতা বিচার করা কতটা গ্রহণযোগ্য? গ্রামের কোনো পরিবার মাসে ১৫–২০ হাজার টাকা খরচ করতে না পারলেই কি তারা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অসচেতন—এমন ধারণা তৈরি হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ।

কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে যে বিষয়টি মূলত উঠে এসেছে, সেটি হলো অতিরিক্ত ক্লাসের নামে আদায়কৃত অর্থ, ক্লাসের সময়কাল এবং এর নীতিমালা অনুসরণ। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, এর বিনিময়ে কত টাকা নেওয়া যাবে, কীভাবে নেওয়া যাবে এবং সেই অর্থের হিসাব কী—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তরও জরুরি।

প্রতিবাদলিপিতে শিক্ষক দাবি করেছেন, ২০১২ সালের পরিপত্রের আলোকে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে রশিদের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ টাকা অতিরিক্ত ক্লাস বাবদ নেওয়া হয়। নির্ধারিত ১২ দিনের পরিবর্তে ২৬ দিন ক্লাস নেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে প্রকাশিত সংবাদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও জানিয়েছেন, সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয় না; কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়।

ফলে এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—প্রকৃত ফি কত? ১ হাজার ৮০০ টাকা নাকি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা? ফি নির্ধারণের ভিত্তি কী? ১২ দিনের পরিবর্তে ২৬ দিন ক্লাস পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে কি না? এবং আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কোথায়?

এদিকে প্রতিবাদলিপিতে সাবেক শিক্ষার্থীদের কিছু মন্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার ও অনুশোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সম্মান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো বিষয়ে সমালোচনা থাকলে সেটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জবাব দেওয়াই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

এখানে মূল প্রশ্ন কোনো শিক্ষক বা বিদ্যালয়কে হেয় করা নয়। প্রশ্ন হলো—একটি সংবাদ প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেন শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি, নেশা, পারিবারিক অসচ্ছলতা, অভিভাবকদের অশিক্ষিত-অসচেতন হওয়া এবং ‘অজপাড়া গ্রামের’ বিদ্যালয়ের মতো বিষয়গুলোকে সামনে আনতে হলো?

শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের দায়িত্ব বিদ্যালয়ের। অভিভাবকের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলে তাদের পাশে দাঁড়ানোই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানবিক ভূমিকা। আর অতিরিক্ত ক্লাস যদি সত্যিই শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করার উদ্যোগ হয়ে থাকে, তাহলে তার কার্যকারিতা প্রমাণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের উন্নত উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন—কঠোর বা তুলনামূলক বক্তব্য নয়।

তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা—অতিরিক্ত ক্লাসের অনুমোদন, নির্ধারিত ফি, আদায়কৃত অর্থের হিসাব, ক্লাসের সময়সূচি এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উপকার—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তানজিনা খাতুনকে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের এমন প্রতিবাদের ভাষার বিষয়ে জানালে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park