
শাহিন আলম টেকনাফ
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারকৃত সড়কে দুই বছর না পেরোতেই প্যালাসাইডিং ব্লক ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মুলত ব্লকের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এসব ব্লক ধসে পড়েছে। ব্লক ধসে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তার আশপাশে আরও বিস্তৃত অংশও অচিরেই ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সড়ক সংস্কারে কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক অনিয়মের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিগত ২০১২ সালে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম অংশে সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে লোকালয়ে। নিয়মিত জোয়ার ভাটার পানির ধাক্কায় ওই বছরের জুন মাসে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। এতে প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের ভাঙন অংশ পায়ে হেঁটে এবং নৌকায় যাতায়ত করতে হতো স্থানীয় বাসিন্দাদের। ভঙ্গুর এ সড়তে প্রায় দীর্ঘ এক দশক সীমাহীন ভোগান্তিতে কেটেছে দ্বীপের মানুষের যাতায়া মানুষের যাতায়াতের দূর্ভোগ লাঘবে ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক কামার নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ৬৭.৭৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জে,কে এন্টারপ্রাইজ ২০২০ সালে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালের শেষ দিকে সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে। সংস্কারকৃত সড়কটির দুই পাশে খাল ও বিল থাকায় নকশা মোতাবেক সড়কের উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য দুই পাশে প্যালাসাইডিং ব্লক স্থাপন করা হয়। কিন্তু সুরক্ষার এ প্যালাসাইডিং ব্লক ধসে। পড়ায় সড়কটির ভবিষ্যত। টেকসই নিয়ে প্রশ্ন: উঠেছে। শাহপরীর দ্বীপের। বাসিন্দা ও ইউনিয়ন: বিএনপি সভাপতি। মোহাম্মদ ইসমাইল। বলেন, বিগত সরকারের আমলে সড়কটি সংস্কারের। উদ্যোগ নিলেও ঠিকাদারি। প্রতিষ্ঠান ঠিক মতো কাজ। করেননি। সড়কের । সাইডে সুরক্ষার জন্য যে : ব্লক গুলো বসিয়েছে। সেগুলো বসানোর আগে। ভালোভাবে মাটি চাপা দেয়া হয়নি।। যেনতেনভাবে তড়িঘড়ি করে একটি মহলকে ম্যানেজ করে তারা অনিয়মের মাধ্যমে সড়কের কাজ শেষ করেছে। এখন যে অংশটিতে ব্লক ধসে পড়েছে। টেকট ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। দ্রুত সময়ে সংস্কার না করতে পারলে এ ধস নায়ে। বাড়তে পারে। দ্বীপের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক কলিম উল্লাহ বলেন, সড়কটি বিলীন হওয়ার পর এ দ্বীপের দুই বছর না পেরোতেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষের যাতায়তে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর সড়কটি সংস্কার হয়। কিন্তু একটি টেকসই সড়কের দাবি জানানোর পরও ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারকৃত সড়ক কিভাবে এতো দ্রুত ব্লক ধসে পড়ে তা আমাদের বোধগম্য নয়। সড়ক সংস্কারে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন অনিয়ম ছিল কিনা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, শাহপরীর দ্বীপ সড়কের একটি অংশে ব্লক ধসে পড়ার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। আমরা খুব শিগগির সেখানে যাবো, দেখে বলা যাবে আসলে কি কারণে এতো কম সময়ে ব্লক ধসে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, না দেখে বলা যাচ্ছে না আসলে, আমরা স্পটে যাবো তারপর দ্রুত ওই স্থান সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের অনিয়ম থাকলে সেটা অবশ্য বলবো।