
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাছখোলা বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরির একটি ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হামিদ এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিনব কায়দায় নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা চুরির এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে একই বাজারে পরপর তিনটি চুরির ঘটনা ঘটায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সাংবাদিক মাসুদ রানার বাড়িতে কনস্ট্রাকশনের (নির্মাণ) কাজ চলমান থাকায় তিনি এবং তার পিতা আব্দুল হামিদ মিস্ত্রির সাথে বাড়িতে ব্যস্ত ছিলেন।পরে বিকেল ৬টার দিকে তার পিতা আব্দুল হামিদ বাজারে এসে দোকান খুললে দেখতে পান যে, ক্যাশ টেবিলের ওপর তিনটি চাবি আলতোভাবে রাখা আছে, কিন্তু ক্যাশ ড্রয়ারে রক্ষিত নগদ কোনো টাকা নেই। ড্রয়ার ভেঙে বা জোরপূর্বক খোলার কোনো আলামত না থাকায় চোরচক্র দোকানের চাবি বা সুকৌশলে ড্রয়ারের লকার খুলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মাছখোলা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই বাজারে পরপর তিনটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ‘আনিসের চায়ের দোকান’ এবং ‘আলী আম্মাদের চায়ের দোকান’-এই চুরির ঘটনা ঘটে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি মাছখোলা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ও মাদক কারবারিদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এসব মাদকাসক্ত ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়ার কারণেই বাজারে ধারাবাহিক চুরির ঘটনাগুলো ঘটছে বলে মনে করছেন তারা।
মাছখোলা বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টির অধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় বাজারের মুদি দোকানদার, চা দোকানি ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতা ও চুরি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাজারে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। অবিলম্বে এই চুরির ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মাছখোলা বাজারে পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।