1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
ভাউলাগঞ্জ হাটে গরুপ্রতি ১৫০ টাকা অতিরিক্ত টোল  আদায়ের অভিযোগ - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরিপুর সীমান্তে ১৬৫ বোতল মদ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ-ক্যানুলা ময়লার গুদামে, উঠছে নানা প্রশ্ন সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি

ভাউলাগঞ্জ হাটে গরুপ্রতি ১৫০ টাকা অতিরিক্ত টোল  আদায়ের অভিযোগ

মো সালাউদ্দীন -  পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৬ বার পঠিত

মো সালাউদ্দীন –  পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ হাটে পশু কেনাবেচায় নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। 

রোববার (৩০ আগস্ট) সরেজমিনে ভাউলাগঞ্জ হাটে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসন অনুমোদিত টোলের হার অনুযায়ী, প্রতি গরুর ক্ষেত্রে শুধু ক্রেতার কাছ থেকে ৫৫০ টাকা নেওয়ার কথা। তবে হাটে গরুপ্রতি ক্রেতার কাছ থেকে ৬০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ গরুপ্রতি ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে মোট ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রতি ছাগলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টোল ১৫০ টাকা হলেও ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। ফলে ছাগল প্রতি অতিরিক্ত ১৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেওয়া রশিদে আদায়কৃত টোলের পরিমাণ উল্লেখ না করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বুধবার হাটটি বসে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ১৪৩৩ সনে আয়কর ও ভ্যাট ব্যতীত হাটটি ১ কোটি ১৩ লাখ ২ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক গরু-ছাগল এই হাটে কেনাবেচা হয়। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি হাটে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি গরু এবং ১৫০ থেকে ২০০টি ছাগল কেনাবেচা হয়।

হাটে গরু কিনতে আসা টেপ্রীগঞ্জের বটতলী এলাকার মোস্তাফা বলেন, গরু কেনার পর রশিদ নেওয়ার সময় তাকে ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। আবু বক্কর ছিদ্দিক নামে আরেক ক্রেতাও গরুর জন্য ৬০০ টাকা দেওয়ার কথা জানান।

অন্যদিকে গরু বিক্রেতাদের কাছ থেকেও ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটিকে ‘চাঁদা’ বলা হচ্ছে। হাটে আসা গরু বিক্রেতা তফিজুল, রবিউলসহ কয়েকজন বিক্রেতা তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার কথা জানান।

ছাগলের হাটেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলার ভোগডাবুরী ইউনিয়ন থেকে আসা সোহাগ নামে এক ক্রেতা বলেন, ছাগল কেনার পর রশিদ নেওয়ার সময় তাকে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে।

বোদা উপজেলার ডিয়াপাড়া এলাকার নেন্দ বলেন, ছাগল কেনার পর রশিদ নেওয়ার জন্য ৩০০ টাকা দিছি। সরকারি টোল কত টাকা, কেউ বলে না।

ইজারার শর্ত অনুযায়ী, হাটের একাধিক স্থানে নির্ধারিত টোলের তালিকা সংবলিত সাইনবোর্ড প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। তবে সরেজমিনে পুরো হাটে এমন কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্ধারিত টোলের হার সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন না।

ছাগলের হাটে টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা মতিয়ার ও পদো বলেন, রশিদে আদায়কৃত টোলের টাকা লেখার জন্য ইউএনও কিংবা চেয়ারম্যান আমাদের কিছু বলেনি। রশিদেও টোলের পরিমাণ লেখার জায়গা নেই। ইউএনও বললে আমরা লিখে দিতাম। 

গরুর হাটে টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও একই কথা বলেন।

রোববার সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি বুঝতে পেরে হাটে থাকা ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ করেন। এ সময় টোল আদায়কারীদের সঙ্গে কয়েকজন ক্রেতার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে কয়েকজন ক্রেতাকে বাড়তি টাকা ফেরত দিতে দেখা যায়।

গরু ও ছাগলে টোলের নামে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এতে প্রতি মাসে ইজারাদারের পকেটে যাচ্ছে অন্তত সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

হাটের ইজারাদার হারুন অর রশিদ চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তার রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবের কারণে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, রশিদে অবশ্যই আদায়কৃত টোলের পরিমাণ লিখতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park