
মোঃ বেলাল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে এইচএসসি ও সমমান রসায়ন ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. শুকুর আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২১ জন শিক্ষার্থী কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর ওই কর্মচারীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আদিনাথপুর সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে এইচএসসি রসায়ন ব্যবহারিক পরীক্ষা চলছিল। মাওলানা ভাসানী কলেজের ‘জ’ গ্রুপের ছাত্রীরাও ওই পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে রসায়ন বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. শুকুর আলী ছাত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শরীরের স্পর্শ কাতর স্থানে হাত লাগান এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোর করে ১০০ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) মাওলানা ভাসানী কলেজের ২১ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ছাত্রীরা রসায়ন বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. শুকুর আলীর বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই এসিস্ট্যান্ট আমাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার কথা বলে সবার শরীরেই টাচ করেছে। স্যার থাকাকালীন সময়েও টাচ করেছে। স্যার চলে যাওয়ার পরেও চেষ্টা করেছে। আমরা নিজেদেরকে নিরাপদ দূরে নিয়ে গিয়েছি। তিনি জনপ্রতি ছাত্র /ছাত্রী থেকে ১০০ টাকা নিয়েছেন, যা নিয়ম বহির্ভূত।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহিদুল হাসান বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আদিনাথপুর সরকারি কলেজে বদলী করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু তো আমরা পারি না।
প্রকাশ যে, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়ের স্ত্রী রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক।
এই ঘটনা জানাজানি হলে সিরাজগঞ্জে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ঘৃনা সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত অভিযোগকারী ছাত্রীরা বলছেন অনৈতিক কাজের জন্য ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট শুকুর আলীর শুধু বদলী যথেষ্ট নয়। তাকে চাকুরীচ্যুত করতে হবে।