
আব্দুল্লাহ বিন কামাল,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
পূর্ববিরোধের জেরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও আবাসিক হলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুস সালাম হল ও শহীদ মিনার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার দুপুরে সাব্বির হোসেনের অনুসারীরা বহিরাগতদের নিয়ে আবদুস সালাম হলে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সালাম হলে থাকা শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ ছাড়া সালাম ও আবদুল মালেক উকিল হলের আরও কয়েকটি কক্ষেও ভাঙচুর করা হয়।
হামলা ও ভাঙচুরের পর সালাম হল প্রাঙ্গণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সাব্বিরের অনুসারীদের ধাওয়া দেন। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম থেকে শুরু করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, প্রক্টরিয়াল বডি এবং অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উপাচার্য পরে আহতদের দেখতে যান।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “আমরা এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাঠে আছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাতে আবাসিক হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আবদুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় ছাত্রদলের এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে নতুন করে ক্যাম্পাসে এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।