
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
প্রায় দুই সপ্তাহের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আংশিকভাবে চালু হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে গত ২১ জুলাই থেকে টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছিল।
৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
পেট্রোবাংলার সদস্য (অপারেশন) ড. রফিকুল ইসলাম জানান, টার্মিনালটি চালুর পর জাতীয় গ্রিডে বর্তমানে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ৭৫০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।
গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশের অপর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটিও আগে থেকেই বন্ধ থাকায় ওই সময়ে কার্যত একটি সচল টার্মিনালের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এতে এলএনজি পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা কমে গিয়ে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়।
এদিকে, আরেকটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। শুক্রবার থেকে কার্গোটি খালাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ কার্গো থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে। এতে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতে চলমান গ্যাস সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।