
টেকনাফ প্রতিনিধি //
কক্সবাজারের টেকনাফে একটি নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিশুশিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফের পুরান পল্লান পাড়ায় অবস্থিত উম্মুল হুদা নূরানী মাদ্রাসা ও আইডিয়াল কেজি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাওলানা আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে ।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে শিশুটিকে একটি থাপ্পড় মেরে দেওয়ালের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর মুখে আরও দুটি থাপ্পড় মারায় তার মুখ লাল হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে শিশুটির দুই হাতে পাঁচটি করে মোট ১০টি ব্যাগ বহন করিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এভাবে শিশুটিকে একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশুটির বাবা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শিক্ষা দেওয়া কিংবা শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কোনো শিশুর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষকের আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কারণে সংশ্লিষ্ট শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে—এমন ভয় দেখানো বা শিশুটিকে দোষারোপ করা উচিত নয়। বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ শফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অন্য ছাত্রদের সঙ্গে দুষ্টুমি করার কারণে ওই শিক্ষার্থীকে একটি থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের আঘাত না করার জন্য শিক্ষকদের আগেই নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, এ ধরনের ঘটনা যেন প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন না করে। নিষেধ করার পরও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে। এখন আর কী করার আছে?”
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আতাউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং শিশুদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।