1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
টেকনাফে টানা বর্ষণ পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে মাইকিং - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাঁচবিবিতে মাদকবিরোধী পোস্টের জেরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ। পুঠিয়ায় আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান। নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার এক আসামি গ্রেফতার। দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু। ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা মহেশখালীর পান চাষিরা, বাড়ছে ঋণের বোঝা মহেশখালীতে ৬০ শতাংশ পরিবার পান চাষের সঙ্গে জড়িত, ন্যায্যমূল্য ও সরকারি সহায়তার দাবি। চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ে গৃহবধূর আ/ত্ম/হ/ত্যার ঘটনার মামলায় স্বামী গ্রে/ফ/তার । শাহজাহানপুর তরুণ সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন শাহী হালিম জামতৈল। সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: মাছখোলা বাজারে দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা স্থাপন।

টেকনাফে টানা বর্ষণ পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে মাইকিং

শাহিন আলম টেকনাফ //
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ৫৭ বার পঠিত

শাহিন আলম টেকনাফ //

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা দুই-তিন দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃষ্টির পানিতে হাজারো ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও চিংড়িঘের। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে । এতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।

এদিকে সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা সাঁতরে নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মাছ ও জালসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার অন্তত ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মানুষের বসতি রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সকাল থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। টেকনাফে প্রায় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও ১১টি টিলায় বসতি গড়ে উঠেছে। বন বিভাগের প্রায় ৩৯ হাজার হেক্টর বনভূমির বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারাও রয়েছেন।

পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর আলম বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে আমরা আতঙ্কে আছি। সকাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু যাওয়ার মতো আমাদের কোনো বিকল্প জায়গা নেই”।

সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, “ভারী বৃষ্টিতে পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। খাল দখলের কারণেই এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে”।

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, “মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে মাঝিমাল্লারা নিরাপদে তীরে ফিরতে পেরেছেন। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে সমুদ্রঘেঁষা কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে”।

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, “টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে”।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, ‌‌‌‌‌‌“ভারী বর্ষণে এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের ছিড়ে গেছে। এছাড়া ৫শতাধিকের বেশি ঘরবাড়ি পানিবন্দী হওয়ায় সাধারণ মানুষজন দুভোগে পরেছে। আমরা পানি বন্দীদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে”।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করছি। কারণ টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের ভয় আছে। এছাড়া পানিবন্দি লোকজনের খোঁজখবরও রাখছি”।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park