
মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার,স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচনে আনুপাতিক হার (রেশিও) অনুযায়ী ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ১৩টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দুপুর ১১ টায় নির্বাচন কমিশনে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খানের কার্যালয়ে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, সংসদের ৩০০ আসনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যার রেশিও অনুযায়ী (প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত আসন) ১১ দলীয় জোট মোট ১৩টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১২টি এবং শরিক দল এনসিপি ০১ টি আসন পেয়েছে। জামায়াত তাদের ১২টি আসনের মধ্যে ০৮টি নিজেদের দলের জন্য রেখে বাকি ৪টি আসন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সমঝোতার ভিত্তিতে শরিকদের জন্য বরাদ্দ করেছে।
পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট এবং রক্তাক্ত অভ্যুত্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্তরার শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা রফিয়া বেগমকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নেতাদের মতে, শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তাঁদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসময় মনোনয়ন প্রাপ্তদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি রাজপথের লড়াকু, ত্যাগী, দক্ষ এবং যোগ্য বোনদের সামনে নিয়ে আসতে। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শবাদী দল হিসেবে নীতি ও আদর্শের জায়গায় আপোষহীন থেকে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
এর মধ্যে মনোনয়ন প্রাপ্তদের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
রফিয়া বেগম: জুলাই বিপ্লবের শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা।
নাজমুন নাহার: জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি। মেহেরুন্নেসা: ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি।
ডক্টর মারুফা আহমেদ: এনসিপির সেক্রেটারি জেনারেল (জোটের শরিক হিসেবে)।
তবে জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, মনোনীত নারী প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা বলেন, আমাদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই যে, আমরা ইনসাফ কায়েমে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই সংসদে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটুক।
এসময় নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, কমিশন যেন নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখে। পরিশেষে, তাঁরা দেশ ও মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।