
বেবি চক্রবর্ত্তী: হুগলি:- হুগলি চুঁচুড়া পৌরসভায় সাম্প্রতিক সময়ে মাইনে ও বোনাস নিয়ে কর্মীদের আন্দোলন ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। একাধিকবার পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছে, বিশেষ করে বোনাস এবং বকেয়া মজুরি নিয়ে। গত শনিবার, পৌরসভার কর্মীদের সংগঠনের তরফ থেকে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছিল চুঁচুড়া থানায় এবং সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরে। সংগঠনের নেতারা জানান, সোমবার পৌরসভার সাথে মহকুমা শাসকের দপ্তরে (SDO) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তাদের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, সোমবার সকালে হঠাৎ করেই পৌরসভার সমস্ত কাউন্সিলর একত্রিত হন পৌরসভা ভবনে, যদিও কোনও অনিবার্য কারণেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পৌরসভার গেটে উপস্থিত হয়ে যান আন্দোলনরত অস্থায়ী কর্মীরা এবং বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলন চলতে থাকলেও পরে কাউন্সিলররা শান্তিপূর্ণভাবে পৌরসভা ভবন থেকে বেরিয়ে যান। তবে এরপরও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
পৌরসভার পৌর প্রধান অমিত রায় এই আন্দোলনের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, আন্দোলনরত কর্মীদের মধ্যে অনেকেই কাজ না করে বাড়িতে বসে মাইনে নিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, দুটি ইউনিয়নের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চলছে, যেখানে তারা দেখাতে চাইছে কে জিতবে। এ নিয়ে আন্দোলনরত ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ আসে, যেখানে তারা প্রশ্ন তুলেছে, যদি সত্যিই কেউ কাজ না করে মাইনে নেন, তবে পৌর প্রধান কেন তাদের বহিষ্কার করছেন না? তারা আরও বলেন, পৌর প্রধান শপথ নেওয়ার আগে কেন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি, এবং কেন এতদিনের ভুয়ো কর্মীদের নিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন?
ইউনিয়নের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই কিছু ভুয়ো কর্মী শনাক্ত করেছিলেন, কিন্তু পৌর প্রধান তাদের বরখাস্ত না করে উল্টো তাদের আরও ভালো কাজ দিয়েছেন। এই সমস্ত অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের ফলে পৌরসভার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে।
এর ফলে, পূজোর সময় সাধারণ মানুষ পরিষেবা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়তে পারে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভের অবসান না হলে পৌরসভার কার্যক্রম বিপর্যস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে চুঁচুড়া পৌর এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর।