1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
ইসলামের দৃষ্টিতে সিনেমা, ভাস্কর্য ও চিত্রকলা। ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি খেলাধুলায় মনোবল বাড়াতে জোড়া খাসি উপহার দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন মাস্টার নিয়োগের অপেক্ষায় ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকগণ, নেই নিয়োগের চুড়ান্ত ঘোষণা নেই, নিয়োগের বাঁধা কোথায়!

ইসলামের দৃষ্টিতে সিনেমা, ভাস্কর্য ও চিত্রকলা। ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯৬ বার পঠিত

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার

ইসলামী শিক্ষায় মূর্তি বা যে কোনো জীবন্ত সত্তার অবয়বভিত্তিক প্রতিকৃতির ধারণা মৌলিকভাবে প্রত্যাখ্যাত। মহান আল্লাহ নিজেই সকল আকৃতি ও অবয়বের উর্ধে।

অতএব, কোনো ঐশী সত্তা, পার্থিব বস্তু বা মানুষের প্রতি উপাসনা, শ্রদ্ধা কিংবা সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তার শারীরিক অবয়ব নির্মাণ বা ব্যবহার করা ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী।

মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ এবং তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতার মাধ্যমে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। তিনি সকল আকৃতি ও অবয়বের ঊর্ধ্বে। সুতরাং কাউকে শক্তিশালী, মহান বা শ্রদ্ধার যোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য তার মূর্তি বা অবয়ব নির্মাণ ইসলামের চেতনা ও শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফলে, কোনো অবয়ব বা মূর্তির মাধ্যমে সম্মান, শ্রদ্ধা বা মর্যাদা প্রদর্শনের ধারণা ইসলামের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। যদি এটি গ্রহণযোগ্য হতো, তবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ নিজেই অবয়বহীন না থেকে দৃশ্যমান কোনো রূপে আত্মপ্রকাশ করতেন।

সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে মানবজাতি কখনোই স্রষ্টাকে কোনো শারীরিক বা অবয়বগত রূপে দেখেনি। এ সত্য সকল ঐশী ধর্মেই প্রতিফলিত হয়েছে। প্রকাশিত ধর্মসমূহের ইতিহাসে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, নবীগণও স্রষ্টাকে শারীরিক বা অবয়বগত রূপে প্রত্যক্ষ করেছেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ও আল্লাহকে কোনো শারীরিক বা অবয়বগত রূপে দেখেননি।

স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রকৃতি মৌলিকভাবে ভিন্ন। মানুষের চোখ তার স্বাভাবিক গঠন ও সীমাবদ্ধতার কারণে স্রষ্টাকে দেখার ক্ষমতা রাখে না। স্রষ্টা ও সৃষ্টি সত্তা, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। তাই পার্থিব জীবনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে মানুষ কখনোই স্রষ্টাকে শারীরিকভাবে দেখতে বা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম নয়।

এই প্রেক্ষাপটে স্রষ্টার কোনো অবয়ব নির্মাণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, কারণ তা এমন কিছুর অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যা বাস্তবে নেই। এর মাধ্যমে স্রষ্টার একটি ভ্রান্ত চিত্র উপস্থাপন করা হয় এবং তাঁর প্রকৃত সত্তার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আরোপ করা হয়।

যেহেতু স্রষ্টা সকল আকৃতি ও অবয়বের ঊর্ধ্বে, তাই তাঁকে কোনো শারীরিক রূপে উপস্থাপনের চেষ্টা সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণের শামিল।

একইভাবে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও, যদি সর্বশক্তিমান আল্লাহ নিজেই কোনো অবয়ব বা মূর্তির প্রয়োজন অনুভব না করেন, তবে তাঁরই সৃষ্ট মানুষকে সম্মান বা স্মরণ করার জন্য মূর্তি বা ভাস্কর্যের প্রয়োজন কেন হবে? এটি ইসলামের একটি মৌলিক নীতি, যা চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়।

আল্লাহর নবীগণ ছিলেন সর্বাধিক সৎ, সত্যবাদী, বিশ্বস্ত, সম্মানিত ও মানবকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিত্ব। মানবজাতির কল্যাণ ও পথপ্রদর্শনে তাঁদের অবদান সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁদের স্মরণ বা তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যখন কোনো মূর্তি বা ভাস্কর্যের প্রয়োজন হয়নি, তখন জাতীয় নেতা বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন অপরিহার্য মনে করা হবে? এ ধরনের প্রথা সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও নীতিমালার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

অতএব, জাতীয়ভাবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে ভাস্কর্য নির্মাণ—এই দৃষ্টিকোণ থেকে—একটি ভ্রান্ত ধারণা। একজন মহান ব্যক্তিকে সম্মান জানানোর যথার্থ উপায় হলো তাঁর মূর্তি নির্মাণ নয়; বরং তাঁর মহান আদর্শ, শিক্ষা ও সৎকর্মকে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করা। প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রকাশ পায় তাঁর আদর্শকে আন্তরিকভাবে জীবনে ধারণ করার মাধ্যমে। যেমন আল্লাহ কোনো দৃশ্যমান অবয়ব ছাড়াই সমগ্র সৃষ্টিজগতকে নিরন্তর প্রতিপালন ও অনুগ্রহ করে চলেছেন, তেমনি মানুষেরও উচিত নিজের কর্ম, চরিত্র ও অবদানের মাধ্যমে সমাজকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। এটাই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।

ইসলামী দর্শনে মানুষের সম্পর্ক অনন্ত ও চিরস্থায়ী সত্তার সঙ্গে, ক্ষণস্থায়ী ও সীমাবদ্ধ বস্তুর সঙ্গে নয়। মূর্তি ও ভাস্কর্য বস্তুজগতের ক্ষণস্থায়ী উপাদান, অথচ ইসলাম মানুষকে চিরন্তন সত্যের দিকে পরিচালিত করে। মহাবিশ্ব যেমন সীমাহীন ও ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে, তেমনি আল্লাহর অস্তিত্ব মানবকল্পনারও ঊর্ধ্বে। তাহলে মানুষ কীভাবে তাঁকে একটি সীমাবদ্ধ অবয়বের মধ্যে আবদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে? এ ধরনের প্রচেষ্টা স্রষ্টার প্রকৃত সত্তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

অতএব, মানুষের উচিত আল্লাহ নির্দেশিত মহৎ গুণাবলি ও মূল্যবোধ নিজের জীবনে ধারণ করা, কোনো শারীরিক প্রতিরূপের প্রতি আসক্ত হওয়া নয়। কাউকে স্মরণ করা বা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায় হলো তাঁর মহৎ গুণাবলি, আদর্শ ও মূল্যবোধকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা; তাঁর শারীরিক অবয়ব সংরক্ষণ করা নয়। একই নীতি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর ইবাদত ও স্মরণের ক্ষেত্রেও এটাই অনুসরণীয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park