
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
আমরা কেন এবং কীভাবে নামাজ আদায় করব, এবং নামাজ আদায় ও আল্লাহর নির্দেশ পালন করার ভিত্তি কী? কোন ভিত্তির ওপর এবং কোন দার্শনিক অবস্থান থেকে একজন মানুষ আল্লাহর নির্দেশ পালন করবে? আমাদের ওপর আল্লাহর নির্দেশ পালনের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণকারী মূল বিষয়গুলো হলো এগুলোই।
আসুন, ঈমানের বিষয়টি আলোচনা করি। মহান আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশ পালন করার মৌলিক শর্ত হলো ঈমান। মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান না থাকলে তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা ও তা অনুসরণ করার প্রশ্নই অর্থহীন হয়ে যায়। কতটুকু ঈমান অর্জন করার পর একজনকে আল্লাহর নির্দেশ পালন শুরু করতে হবে? এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা নির্ধারিত নেই। একজন ব্যক্তি যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তখনই তার আল্লাহর নির্দেশ পালন শুরু করা উচিত। তাঁর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার চিন্তা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
ইসলামী মূল্যবোধের অনুশীলন এবং ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলার মাধ্যমে ঈমান ক্রমাগত পরিপক্ব হয়। কেউ যদি ইসলামী বিধি-বিধান অনুসরণ ও অনুশীলন করতে চায়, তাহলে আরও জ্ঞান অর্জনের অপেক্ষা না করে তার অবিলম্বে তা শুরু করা উচিত। কেউ কালেমা স্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গেই আমল শুরু করবে; এর আগে আর কোনো অতিরিক্ত শর্ত পূরণের প্রয়োজন নেই।
কোনো মানুষ যদি অন্ধ হয়, তাহলে সে এমন শর্ত আরোপ করতে পারে না এবং করা উচিতও নয় যে, তার অন্ধত্ব দূর হওয়ার পরই সে ইসলাম পালন শুরু করবে। তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির মাধ্যমে সে যে জ্ঞান অর্জন করেছে, সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়েই তার ইসলাম অনুসরণ ও অনুশীলন করা উচিত।
কোনো মানুষ যদি স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত রাগী হয় এবং নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সীমিত থাকে, তাহলে সে এমন শর্ত দিতে পারে না যে, আল্লাহ তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়ার পরই সে ইসলাম পালন শুরু করবে। এ ধরনের পূর্বশর্ত আরোপ করা যায় না। একজন মানুষ যে মানসিক অবস্থা বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তার ইসলাম পালন শুরু করা উচিত। আল্লাহ প্রত্যেক ব্যক্তির বিচার করবেন তার জন্মগত পরিস্থিতি ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে।
কোনো ব্যক্তি যদি বিত্তবান না হয় এবং দান করার সামর্থ্য সীমিত থাকে, তাহলে বিত্তবান হওয়ার অপেক্ষায় থেকে তার দান-সদকা বন্ধ রাখা উচিত নয়। তার যতটুকু সম্পদ আছে, তার সামর্থ্য অনুযায়ী তা থেকেই তার দান করা শুরু করা উচিত।
আল্লাহ তাঁর সত্তা বা স্বভাব পরিবর্তন করেন না; তিনি অপরিবর্তিত থাকেন। আল্লাহ মানুষকে যে পরিস্থিতি ও সামর্থ্য দিয়েছেন, সেই পরিস্থিতির মধ্যেই মানুষের কাজ করা উচিত। পরিস্থিতি পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে মানুষের নিজের পরিবর্তন সাধন করা উচিত। কেউ অন্ধ হলে তাকে তার অন্ধত্বের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করতে হবে। কেউ দরিদ্র হলে তাকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে তার অসুস্থতা যতটুকু অনুমতি দেয়, ততটুকু তার দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় থেকে তার দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করা উচিত নয়।
মূল বিষয় হলো, মানুষকে নিজেকেই পরিবর্তন করতে হবে। একজন মানুষের সাফল্য নির্ভর করে সে নিজেকে কতটুকু ইতিবাচক দিকে পরিবর্তন করতে পারে তার ওপর—বিচ্যুতি থেকে আদর্শের দিকে এবং ভুল থেকে সঠিকের দিকে। একজন মানুষ নিজের প্রচেষ্টায় যত বেশি ইতিবাচক পরিবর্তন অর্জন করতে পারে, তার জীবনের সাফল্য তত বেশি। স্রষ্টা তাকে পরিবর্তন করে দেবেন, তারপর সে তার দায়িত্ব পালন শুরু করবে—এমন অপেক্ষা করা উচিত নয়। মানুষের উচিত স্রষ্টাকে পরীক্ষা না করা; বরং স্রষ্টাই মানুষকে পরীক্ষা করেন।