
শাহিন আলম টেকনাফ//
সাগরপাড়ে আনন্দভ্রমণে এসে রাত কাটাতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কে জানত, সেই রাতই হবে তাঁদের জীবনের শেষ রাত! পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করেননি কেউ। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই আনন্দভ্রমণ রূপ নেয় শোক, কান্না আর আহাজারিতে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ার টেক মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটু রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ পর্যটক। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা হলেন—ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। শনাক্ত হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একজন শিশু।
‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’- স্বজনের বুকফাটা আহাজারি।
অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক নারীর কান্নার ভিডিও। ভিডিওতে তাঁকে বারবার ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’ বলে আহাজারি করতে শোনা যায়। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তাঁর কান্না ও আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
জানা গেছে, পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন ওই নারী। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ভিডিওতে উল্লেখ করা সাইফের পরিচয় ও নিহতদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একই পরিবারের নয়জনের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, ওই পরিবারের নয়জন সদস্য বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজন প্রাণে বেঁচে গেছেন। বেঁচে যাওয়া সদস্যরা রিসোর্টের বাইরে থাকায় আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পান বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে পরিবারের সদস্যদের খোঁজে কক্সবাজারে ছুটে আসেন তাঁদের স্বজন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার তিন বোনের ভাগনে-ভাগনিসহ পরিবারের নয়জন উখিয়ার ইনানীতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন, তিনজন বেঁচে গেছেন। বেঁচে যাওয়া স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে এখানে এসেছি। মূলত তাঁরা রিসোর্টের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে
এ বিষয়ে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার সমকালকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য থাকতে পারেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে আহত সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।