
মোঃ রাজু শেখ, চট্টগ্রাম।
খাগড়াছড়ি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতালে স্বল্প খরচে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও খাগড়াছড়ি সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও অবৈধ উপার্জনের হাতিয়ার বানিয়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির ড্রাইভার মুসার বিরুদ্ধে।
সরকারি নির্ধারিত ভাড়াকে তোয়াক্কা না করে মুমুর্ষু ও অসহায় রোগীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গাড়িটি তেলে চলার কথা থাকলেও,চলছে না গাড়িতে।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামে রোগী বহন করেন আসছেন মুসা।
নীতিমালা অনুযায়ী খাগড়াছড়ি সদর থেকে চট্টগ্রামে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া মাত্র ২৫০০ টাকা হলেও মুসা সাধারণ ও অসহায় রোগীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন ৫০০০ থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। নিরুপায় হয়ে জীবন বাঁচাতে স্বজনরা তার এই অন্যায় দাবি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
চাকরি এক জায়গায়, ব্যবসা চার জায়গায়:
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে কর্মরত এই অ্যাম্বুলেন্স চালক নিজেকে হাসপাতালের চেয়েও প্রভাবশালী মনে করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি মুসার নিজস্ব ৪টি ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে অকেজো বা ব্যস্ত দেখিয়ে রোগীদের নিজের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একজন সামান্য চালকের পদে চাকরি করে মুসা কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর কেন্দ্র হাসপাতালের আশেপাশেই তার রয়েছে প্রায় কোটি টাকার মূল্যের জমি ও স্থাবর সম্পত্তি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
এক ভুক্তভোগীর ক্ষোভ জানায় : পাহাড়ের দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র মানুষগুলো চিকিৎসার জন্য এসে মুসা চালকের এই সিন্ডিকেটের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত এই দুর্নীতিবাজ চালকের বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্ত পরিচালনা এবং তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
জোসনা নামের একজন নারী জানান : এই অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার মুসা, আমাদেরকে সরকারি গাড়ি থাকা সত্ত্বেও অন্য গাড়িতে ৮ হাজার টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসে আসার পথে মুসা অন্য মেডিকেলে যাওয়ার কথা বলে আমরা না যাইতে চাইলেও তিনি বুঝিয়ে জোরপূর্বক আমাদেরকে নিয়ে যায় আমি চাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেন এই বিষয়ে একটা একশন নেয় আমার মত না হয় কতই মানুষ, রোগী সজনরা কষ্ট পাচ্ছেন
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খাগড়াছড়ি সদরে দায়িত্বে থাকা ডাঃ শারমিনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান : মুসার ব্যাপারটি তিনি অবগত নন
অ্যাম্বুলেন্সের চালক মুসাকে কয়েকবার মুঠোফোনে কল দিলে বিজি আছে বলে মোবাইল ফোনটি রেখে দিয়েছেন।