
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মৌপুকুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে বর্ণিল আয়োজন। এবার ব্যতিক্রমী ভাবনা ও নান্দনিক উপস্থাপনায় সাজানো হচ্ছে মন্দির প্রাঙ্গণ। এবারের প্রতিপাদ্য বা থিম— ‘প্রলয় পেরিয়ে কৈলাস’। দেবী দুর্গার আগমনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আবহ, শিল্পনির্ভর সাজসজ্জা ও উৎসবের আমেজে ভক্তদের আকৃষ্ট করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা।
মৌপুকুর সর্বজনীন দুর্গামন্দির অঙ্গণে আয়োজিত এ পূজাকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। থিমের ভাবনায় প্রলয়ের বিপর্যয় পেরিয়ে কৈলাসের শান্তি ও শুভশক্তির জয়কে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমা দর্শন, মন্দিরের সাজসজ্জা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা পাবেন এক ভিন্নধর্মী উৎসবের অভিজ্ঞতা—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।
এবারের দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার (মাস্টার), সাধারণ সম্পাদক শ্রী মিঠুন চন্দ্র সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা সার্বিক আয়োজন পরিচালনা করছেন। থিম পরিচালনায় রয়েছেন সাগর, অনুপ, রতন, সুকুমার, পল্লব, প্রসেনজিৎ, বাদল, বিদ্যুৎ, দুর্জয়সহ সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও সহযোগীরা। পূজার পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শ্রী রূপক চন্দ্র চক্রবর্তী।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার বিভিন্ন তিথিতে ধর্মীয় রীতি অনুসারে পূজা-অর্চনা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণে থাকবে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এবারের পূজায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম প্রত্যাশা। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে সমাজ থেকে অশুভ শক্তি, অশান্তি, দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়ে সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হোক—এমন প্রার্থনা নিয়ে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
মৌপুকুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরের পূজা উদ্যাপন কমিটি ভক্তবৃন্দ, দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘প্রলয় পেরিয়ে কৈলাস’ থিমের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করতে মন্দির প্রাঙ্গণে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সবার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দময়, সুশৃঙ্খল ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।