
শাহিন আলম টেকনাফ //
একদিকে বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে নাফ নদী ও সবুজে ঘেরা পাহাড়-প্রকৃতির এমন অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমীরা। সারাদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সীমান্তঘেঁষা এই জনপদ এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে শাহপরীর দ্বীপ জেটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি। তাদের অনেকেই জেটির শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করছেন এবং ছবি তুলছেন। জেটির একটি বড় অংশ নাফ নদীর পানির ওপর বিস্তৃত হওয়ায় সেখানে দাঁড়ালে মনে হয়, যেন নদীর বুকেই অবস্থান করছেন দর্শনার্থীরা।
শাহপরীর দ্বীপের বিশেষ আকর্ষণ হলো একই স্থান থেকে নদী, সমুদ্র ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ। পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি নৌকা,পূর্বে নাফ নদী আর ওপারে পাহাড়ের সবুজ-সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। এর সঙ্গে জেলেপল্লি, মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেদের কর্মব্যস্ত জীবন পুরো এলাকাকে দিয়েছে আলাদা বৈচিত্র্য।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের আভাসও দেখা যায়। ফলে প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের কাছেও জায়গাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা টেকনাফে প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য সহজেই নজর কাড়ে। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলন, পাহাড়ের সবুজ, জেলেদের জীবনযাপন এবং সীমান্তঘেঁষা পরিবেশ-সবকিছু মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা।
নাফ নদে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহীন আলম বলেন, আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে এখানে ঘুরতে এসেছি। সমুদ্রসৈকতে অনেকবার গিয়েছি, তবে নাফ নদে এসে একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি হচ্ছে। বিশেষ করে নদীর বুক থেকে ওপারে মিয়ানমারের সুউচ্চ পাহাড় দেখার দৃশ্যটি দারুণ উপভোগ করছি।
এদিকে বঙ্গোপসাগর আর মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষে নাফ নদ ও সমুদ্রের শেষ প্রান্তে শাহপরীর দ্বীপের অবস্থান। এ দ্বীপে দৃষ্টিনন্দন নতুন সড়ক নির্মিত হওয়ায় পর্যটনের নতুন দুয়ার খুলেছে। এ ছাড়া দ্বীপে জেটিসহ মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ সমুদ্রসৈকতের পাড়ে সারি সারি রঙিন নৌকা, পাহাড় আর সবুজ বেষ্টনী পর্যটকদের দিন দিন আকৃষ্ট করছে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম জানান, সীমান্তঘেঁষা এই এলাকা তাদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। নাফ নদী, ছোট নৌকা আর পাহাড়ঘেরা পরিবেশ শিশুদেরও বেশ আনন্দ দিচ্ছে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী বলেন, শহরের কোলাহল থেকে দূরে এমন শান্ত পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তি এনে দেয়
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন,পর্যটকদের কাছে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে টেকনাফের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। এখানে একই সঙ্গে সমুদ্র, পাহাড় ও নাফ নদের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নাফের মাঝপথে শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফ জালিয়াপাড়া সীমান্তের জেটি দুটি স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে জেটিগুলোকে পরিকল্পিত ও নান্দনিকভাবে সাজানো প্রয়োজন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সরকার এখানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি টেকনাফে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব সময় কাজ করছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, নাফ নদের মাঝখানে নির্মিত জেটিগুলো এরই মধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেটির মাধ্যমে নদের মাঝামাঝি পর্যন্ত যাওয়া যায় এবং সেখান থেকে মিয়ানমারের পাহাড়ও দেখা যায়। প্রতিদিনই জেটিতে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ছে। সরকার জেটি দুটি টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করলেও এখন সেগুলো নতুন একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। ফলে আমরাও পর্যটকদের সুবিধার্থে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।