
আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া রশীদপুর এলাকায় এক যুবককে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবিরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অটোভ্যানচালক মিলন হোসেন (৩০) গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সলঙ্গা থানায় গিয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন,হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের লিটনের ছেলে হৃদয় হোসেন, শামসুলের ছেলে শফি আহম্মেদ, শফির ছেলে নাঈম আহম্মেদ এবং ইসমাইলের ছেলে সিয়াম হোসেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী যুবক নয়াপাড়া রশীদপুর এলাকায় তার আত্মীয় কামরুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে স্থানীয় একটি দোকানের পাশে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা কৌশলে তাকে পাশের একটি নির্জন বাঁশবাগানে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সেখানে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তার পরনের কাপড় খুলে সংঘবদ্ধভাবে যৌন নির্যাতন করেন। এ সময় অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ইমু অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর এক আত্মীয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মিলন। টাকা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মিলন হোসেন বলেন, “ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।