
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা ও কুতুবজোম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শফিউল আলম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজারে ওয়ারেন্টভুক্ত ও পলাতক আসামি মো. আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় মহেশখালী থানা পুলিশ। একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন।
পুলিশের অভিযোগ, এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমের নেতৃত্বে একদল লোক পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে কনস্টেবল তানভীর হোসেন আহত হন। হামলার সুযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আবুল কাশেমকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ সদস্যকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মহেশখালী থানার পিএসআই মোহাম্মদ ইকবাল বাদী হয়ে ১২ জুলাই থানায় মামলা করেন।
মামলায় শফিউল আলমসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ২২৪, ২২৫, ৩৩২, ৩০৭ ও ৩৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলা দায়েরের পর শফিউল আলম উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান বলে জানা গেছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শফিউল আলম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং কুতুবজোম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। এদিকে, মামলায় অভিযুক্ত শফিউল আলম বা অন্য আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো বিচারাধীন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, পুলিশের ওপর হামলার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল এসব বিষয় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।