
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ব্যাগভর্তি অস্ত্রসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজি সহ সিএনজি ড্রাইভারকেও আটক করা হয়েছে।
২৯ আগষ্ট (শনিবার) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীল এর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন নজরদারিতে শনিবার রাতে ঠাকুরতলার চৌরাস্তার মোড় এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালানোর সময় একটি ব্যাগে থাকা অস্ত্র ও অস্ত্রের বিভিন্ন পার্টস পাওয়া যায়। পরে সিএনজিতে থাকা দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরন ও সংখ্যা এবং এসব সরঞ্জামের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে যাচাই-বাছাই চলছে। পরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো একজন আটক করে পুলিশ।
এদিকে, মাত্র আট দিনের ব্যবধানে মহেশখালীতে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের দুটি ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২১ আগস্ট রাতে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি এলাকার একটি পাহাড়ি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামসহ একজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
পরপর দুটি ঘটনায় মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম এবং এসব অস্ত্রের সম্ভাব্য সরবরাহচক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আগের শাপলাপুর মিঠাছড়ির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, পরিবহনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য গন্তব্য শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব অস্ত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে কোনো কোনো চক্র দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের চেষ্টা চালিয়ে আসতে পারে। তাদের দাবি, শুধু অস্ত্র বহনকারীদের আটক নয়, এর সঙ্গে জড়িত কারিগর, সরবরাহকারী ও মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
মহেশখালী থানা ইনচার্জ (ওসি) সুলতান মাহমুদ অভিযানের বিস্তারিত রবিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে জানাবেন বলে জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরই প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।