
ইদ্রিস আলী
পাঁচবিবি উপজেলা
প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের ঢাকারপাড়া গ্রামের একটি মুসলিম কবরস্থানের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুল্লাহ চৌধুরী পাঁচবিবি থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী নুরুল্লাহ চৌধুরী উপজেলার ঢাকারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার গোহারা মৌজার ১৪৩ নম্বর দাগের ২৪ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি ওই কবরস্থানে থাকা পাঁচটি ইউক্যালিপ্টাস গাছ উপজেলার শালাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে সবুজ (২৩) ও তার মা রওশনআরা (৬৫) স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ও সুজাউল ইসলামের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গাছ কাটায় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
সরেজমিনে নুরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বহু বছর আগে রাজ সিংহ নামে এক হিন্দু ব্যক্তির কাছ থেকে তার বাবা কিছু জমি ক্রয় করেন। একই সময়ে ১৪৩ নম্বর দাগের জমিটি মুসলিমদের কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য দান করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজ সিংহ ভারতে স্থায়ীভাবে চলে গেলে তাদের পরিবার কবরস্থানের দেখভাল শুরু করে এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে। বর্তমানে ওই কবরস্থানে এলাকার বহু মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রওশনআরা বলেন, প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বছর আগে রাজ সিংহ তার স্বামী আব্দুস সালামের নামে জমিটি লিখে দেন। তার স্বামীই সেখানে গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। তাই তিনি গাছ বিক্রি করেছেন। জমির মালিকানার দলিল দেখতে চাইলে তিনি ১৯৫৯ সালের একটি খাজনা রসিদ দেখিয়ে সেটিকেই জমির কাগজ বলে দাবি করেন। তবে অন্য কোনো মালিকানার দলিল তার কাছে নেই বলেও জানান।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচবিবি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কাটা গাছগুলো দেখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে বসার কথা থাকলেও অভিযোগকারী অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।