1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
আমেরিকা-ইরান- যুদ্ধের আসল চেহারা এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাঁচবিবিতে মাদকবিরোধী পোস্টের জেরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ। পুঠিয়ায় আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান। নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার এক আসামি গ্রেফতার। দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু। ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা মহেশখালীর পান চাষিরা, বাড়ছে ঋণের বোঝা মহেশখালীতে ৬০ শতাংশ পরিবার পান চাষের সঙ্গে জড়িত, ন্যায্যমূল্য ও সরকারি সহায়তার দাবি। চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ে গৃহবধূর আ/ত্ম/হ/ত্যার ঘটনার মামলায় স্বামী গ্রে/ফ/তার । শাহজাহানপুর তরুণ সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন শাহী হালিম জামতৈল। সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: মাছখোলা বাজারে দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা স্থাপন।

আমেরিকা-ইরান- যুদ্ধের আসল চেহারা এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৯ বার পঠিত

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, প্রতিটি বড় বড় যুদ্ধের পেছনে শুধু গোলাবারুদের গন্ধ নয়, থাকে রাজনীতি, তেল, অর্থনীতি এবং ক্ষমতার লড়াই। ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু একটি ছোট্ট দেশের মানুষের প্রতিরোধের কাছে হার মেনে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। আফগানিস্তানে বিশ বছর কাটিয়েও আমেরিকা শেষমেশ খালি হাতে ফিরেছে। আজ ইরানের সাথে যুদ্ধের ৩৮তম দিনেও সেই একই প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এই যুদ্ধটা আসলে কোথায় যাচ্ছে?

ইরান কি একা লড়ছে?
অনেকেই মনে করেন ইরান একটি ছোট ও দুর্বল দেশ, আমেরিকার সামনে সে কতটুকুই বা টিকবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়া ইরানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। আধুনিক যুদ্ধে এই ধরনের তথ্য অনেক সময় সরাসরি সামরিক শক্তির চেয়েও বেশি কার্যকর। একটি মিসাইল কোথায় আসছে, কোন পথে আসছে, সেটা আগে জানতে পারলে প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। এই কারণেই দেখা যাচ্ছে, সামরিক শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থেকেও ইরান বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমেরিকাকে কড়া জবাব দিতে পারছে। আমেরিকাকে অপরাজেয় সামরিক শক্তি হিসেবে যে মিথ বছরের পর বছর ধরে তৈরি হয়েছিল, এই যুদ্ধ সেই ধারণাকে অনেকটাই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ব্যয়বহুল ফাঁদে আমেরিকা
যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত দিকটি হলো অর্থনৈতিক। আমেরিকা কয়েক লাখ ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মিসাইল ব্যবহার করছে ইরানের মাত্র কয়েকশ ডলার মূল্যের সস্তা ড্রোন ও মিসাইল ঠেকাতে। এটা অনেকটা হাতি দিয়ে মশা মারার মতো অবস্থা। ইরানের কাছে এই সস্তা অস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে, যা আমেরিকার হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে আরও একটি বড় বিষয়, ইরানের কাছে অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে এবং পারমাণবিক সক্ষমতার ব্যাপারটিও এখন আর সম্পূর্ণ অনুমানের বিষয় নয়। এই কারণেই আমেরিকা পূর্ণ শক্তিতে ইরানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করছে। সামরিকভাবে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার সক্ষমতা আমেরিকার থাকলেও, সেই পথে হাঁটলে যে প্রতিক্রিয়া হবে তা সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।

আমেরিকার আসল লক্ষ্য চীন, ইরান নয়
কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আমেরিকার মূল প্রতিপক্ষ ইরান নয়, চীন। আমেরিকা তার সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বড় অংশ চীনের মোকাবেলার জন্য জমিয়ে রাখতে চায়। এ কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। স্থলযুদ্ধ মানে দীর্ঘ সময়ের জন্য সৈন্য ও সম্পদ একটি ভূখণ্ডে আটকে যাওয়া, যা ইরাক ও আফগানিস্তানে আমেরিকা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। ফলে যুদ্ধটাকে দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার কৌশলই এখন আমেরিকা অনুসরণ করছে বলে মনে হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী এবং ডলারের সংকট
এই যুদ্ধের সবচেয়ে চমকপ্রদ মোড় এসেছে হরমুজ প্রণালীর প্রশ্নে। ইরান কৌশলগতভাবে শুধুমাত্র আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য এই প্রণালী বন্ধ রেখেছে এবং চীনসহ অন্যান্য দেশকে চীনা মুদ্রায় তেল কিনতে দিচ্ছে। এটা একটি অত্যন্ত চতুর কূটনৈতিক চাল। বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্য এতদিন ধরে মার্কিন ডলারে হয়ে আসছে। এই ব্যবস্থাই ডলারকে বিশ্বের প্রধান মুদ্রা হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। ইরানের এই পদক্ষেপ BRICS জোটের ডলারমুক্ত বাণিজ্যের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করছে। আমেরিকার জন্য এটা একটা বড় ধাক্কা, কারণ ডলারের আধিপত্য কমলে আমেরিকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্তৃত্বও কমতে থাকে।

ইউরোপ কেন দূরে সরে থাকছে?
ইউরোপ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নয়, এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ান জ্বালানি বন্ধ থাকায় ইউরোপ এমনিতেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানির দাম আরও আকাশচুম্বী হবে, যা ইউরোপের সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। দ্বিতীয়ত, ইউরোপ নিজেই চীনের সাথে বিশাল অর্থনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। চীন ও রাশিয়ার বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়া ইউরোপের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। তৃতীয়ত, ইউরোপের সাধারণ মানুষ আর কোনো যুদ্ধের ভার বহন করতে রাজি নয়। আমেরিকা বারবার ইউরোপকে ডাকছে, কিন্তু ইউরোপ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে, এটা আমাদের যুদ্ধ নয়।

আরব রাষ্ট্রগুলোর নীরবতার রহস্য
আমেরিকা চেয়েছিল ইরানকে উসকে আরব ভূখণ্ডে হামলা করাতে। এতে আরব দেশগুলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত এবং যুদ্ধের আর্থিক ও সামরিক বোঝা ভাগ হয়ে যেত। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। উপরন্তু আরব শাসকদের মধ্যে আমেরিকাকে সামরিক ঘাঁটি দেওয়ার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। সাধারণ আরব জনগণের মধ্যে ক্রমেই এই অনুভূতি তৈরি হচ্ছে যে আমেরিকার যুদ্ধে নিজেদের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া মানে নিজেদের বিপদ ডেকে আনা।

বাংলাদেশের মুসলিমদের বিভ্রান্তি এবং সত্যিকারের অবস্থান
আমাদের দেশের অনেক মানুষ মনে করেন আমেরিকা-ইরান সংঘাতটা একটা সাজানো নাটক। এই ধারণাটি সঠিক নয়। ইরান শিয়া মতাদর্শের রাষ্ট্র হওয়ায় অনেক সুন্নি মুসলিমের কাছে দেশটি নিয়ে দ্বিধা থাকে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ধর্মীয় পার্থক্যের বাইরেও একটি বিষয় পরিষ্কার। প্রতিটি জাতির নিজস্ব ভূখণ্ড, স্বাধীনতা এবং মর্যাদা রক্ষার অধিকার আছে। ইসলামের দৃষ্টিতেও কোনো অন্যায় আগ্রাসনকে সমর্থন করা যায় না। একটি দেশের উপর বাইরের শক্তির সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সমর্থন করা সম্ভব নয়। রাশিয়া, চীন, কিউবা, ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোও ইসলামী রাষ্ট্র নয়, তবুও তারা সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

দোষ চাপানোর পুরনো খেলা
আমেরিকার একটি পুরনো কৌশল আছে। যখন কোনো যুদ্ধে জড়ায়, তখন পুরো জাতির নামে নামে জড়ায়। কিন্তু যুদ্ধ ভুল প্রমাণিত হলে দু-চারজন নেতা বা কর্মকর্তার উপর সব দোষ চাপিয়ে দেয়। ইরাক যুদ্ধের সমস্ত দায় কলিন পাওয়েলের উপর চাপানো হয়

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park