
শাহিন আলম,টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে নাফনদে একটি যাত্রীবাহি ট্রলারে মিয়ানমার থেকে গুলি র্বষণ করছে। এতে কোনো হতাহত হয়নি। তবে ট্রলারটির বিভিন্ন স্থানে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে আব্দুর রশিদের মালিকাধীন যাত্রীবাহি ট্রলারটি সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে ফেরার পথে নাফ নদের মাঝপথ বদরমোকাম মোহনায় নাইক্ষ্যংদিয়া পার হলে এ ঘটনাটি ঘটে। পরে ট্রলারটি শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে ভীড়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। তবে মিয়ানমার থেকে সেদেশের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) নাকি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি গুলি চালিয়েছে সেটা এখনো পরিস্কার না। যদিও রাখাইন রাজ্যে অধিকাংশ আরাকান আর্মির দখলে।
ট্রলারের থাকা যাত্রী নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সেন্টমার্টিন থেকে অসুস্থত মা’কে নিয়ে কক্সবাজারে চিকিৎসার জন্য সার্ভিস ট্রলারে করে টেকনাফে রওনা করি। মাঝপথে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চরের কাছাকাছি পৌছলে হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে গুলি বর্ষণ করে। এতে ট্রলারে থাকা ৫০-৬০ যাত্রী সুর-চিৎকার শুরু করে। অনেকে কান্নাকাটি করে ট্রলারের নিচে ছুয়ে পরে। অন্তত ৫০ রাউন্ড মতো গুলি ছুঁেড়ে। এতে ট্রলারে একটি কাঠ ভেঙ্গে পরে। মাঝখানে অনেক দিন বন্ধের পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে ফের গুলির ঘটনা ঘটে।’
সের্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সকালে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ ফেরার পথে যাত্রীবাহি আমাদের একটি সার্ভিসের ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে ট্রলারে থাকা লোকজন ভেতরে নিচে ছুয়ে পরে। এ ঘটনায় ফের টেকনাফ-সেন্টমাটিন নৌরুটে শঙ্কা তৈরী হয়েছে।’
সীমান্তে ট্রলারে গুলি বর্ষণের বিষয়টি খোঁজ খবর নেওয়া বলে জানিয়েছেন বিজিবির টেকনাফের ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ‘সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে ট্রলারে গুলি করার বিষয়টি এখন শুনেছি। বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
এর আগেও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ওপর গুলি ছোড়া হয়েছে। ওই এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরাই গুলি ছুড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বেশকিছু দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল।