1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
সুন্দরবন রক্ষার পাশাপাশি জীবিকার নিরাপত্তা। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাঁচবিবিতে মাদকবিরোধী পোস্টের জেরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ। পুঠিয়ায় আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান। নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার এক আসামি গ্রেফতার। দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু। ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা মহেশখালীর পান চাষিরা, বাড়ছে ঋণের বোঝা মহেশখালীতে ৬০ শতাংশ পরিবার পান চাষের সঙ্গে জড়িত, ন্যায্যমূল্য ও সরকারি সহায়তার দাবি। চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ে গৃহবধূর আ/ত্ম/হ/ত্যার ঘটনার মামলায় স্বামী গ্রে/ফ/তার । শাহজাহানপুর তরুণ সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন শাহী হালিম জামতৈল। সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: মাছখোলা বাজারে দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা স্থাপন।

সুন্দরবন রক্ষার পাশাপাশি জীবিকার নিরাপত্তা।

লেখক: সোহাগ হোসেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৪৪ বার পঠিত

লেখক: সোহাগ হোসেন
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্যের অন্যতম ভাণ্ডার এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে এটি শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, বরং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উপকূলীয় জনজীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের পুনরুজ্জীবন এবং হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন বিভাগ কর্তৃক গতকাল সোমবার ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

প্রজনন মৌসুমে প্রকৃতিকে তার স্বাভাবিক ছন্দে চলার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বছরের এই সময়ে মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, হরিণসহ অসংখ্য প্রাণী ও জলজ সম্পদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। মানুষের অবাধ বিচরণ, আহরণ এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বনাঞ্চলে প্রবেশ সীমিত করা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি কার্যকর উপায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি বনজ সম্পদ বৃদ্ধি, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সুন্দরবনের টেকসই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সুন্দরবনের গুরুত্ব কেবল বনজ সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই বন উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষা করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করা। তাই বন রক্ষায় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।

তবে এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও সামাজিক দিক রয়েছে, যা সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি, কাঁকড়া সংগ্রহকারী এবং বননির্ভর শ্রমজীবী মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিন মাসের জন্য বন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বহু পরিবার আর্থিক সংকট, খাদ্য অনিরাপত্তা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়।

এ কারণেই শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করাই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থাগুলো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে এ সময়ে কর্মসৃজনমূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, জলাশয় সংস্কার, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক কর্মকাণ্ড, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বননির্ভর মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের পথ খুলে দিতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, খাদ্য সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদানও সময়ের দাবি।

বাস্তবতা হলো, জীবিকার নিশ্চয়তা ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারে না। যখন কোনো পরিবার বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত থাকে, তখন তাদের কাছে পরিবেশগত বিধিনিষেধের চেয়ে জীবিকার প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে। তাই বন সংরক্ষণ ও মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান।

সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ, আমাদের গর্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়ার মতো অমূল্য প্রাকৃতিক উত্তরাধিকার। এই বনকে রক্ষা করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি বননির্ভর মানুষের জীবনমান ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক কল্যাণ—এই দুইয়ের সমন্বিত প্রয়াসই পারে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে।

সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে, জীববৈচিত্র্য বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, দেশ বাঁচবে। আর সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত হলে তবেই বন সংরক্ষণের এই মহৎ উদ্যোগ সত্যিকার অর্থে সফলতা লাভ করবে। তাই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়া উচিত।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park