
মাসুদ রানা, সাতক্ষীরা:
পশ্চিম সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কাঁকড়া শিকারের সময় বনবিভাগের টহল টিমের গুলিতে আমিনুর রহমান (৪৫) নামের এক নিরীহ জেলে নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বিক্ষুব্ধ বনজীবীরা সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।নিহত আমিনুর রহমান শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা গ্রামের মৃত আকছেদ আলী গাজীর ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক।
নিহতের সহযোগী জেলে আহম্মদ মোড়ল জানান, তিনদিন আগে বনবিভাগের যথাযথ অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে দুটি নৌকাযোগে তারা চারজন বনজীবী সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।১৮ মে (সোমবার)সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে খুলনা রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পাটকোস্টার ঝিলে এলাকায় তারা নৌকায় বসে কাঁকড়া শিকার করছিলেন।এমন সময় পার্শ্ববর্তী টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে বনবিভাগের একটি টহল টিম সেখানে পৌঁছায়। বনজীবীদের দাবি, টহল টিমের ডাকে সাড়া না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় বনরক্ষীরা পিছন থেকে গুলি ছোঁড়ে। ঘটনাস্থলেই এক রাউন্ড গুলি লক্ষ্যভেদী হয়ে আমিনুর রহমানের গায়ে লাগলে তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে সহযোগীরা তার মরদেহ নিয়ে লোকালয়ে ফিরে আসেন।
জেলে নিহতের খবর এলাকায় পৌঁছালে বিকেল স্থানীয় উপকূলীয় বনজীবীদের ক্ষোভ রূপ নেয় গণবিক্ষোভে। বনজীবীরা দলবদ্ধ হয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও পার্শ্ববর্তী বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিস ঘেরাও করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েক মিনিট ধরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অফিসের সীমানা বেড়া ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে দস্যু দমনে বিশেষ অভিযান চলছে। তিনি বলেন”প্রকৃতপক্ষে কাদের গুলিতে ওই জেলের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কারণ ঘটনাটি খুলনা রেঞ্জে ঘটেছে। জেলেদের দাবি অনুযায়ী মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিম সেখানে ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে তদন্তে যদি বনরক্ষীদের কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে, তবে তাকে অবশ্যই প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে।”
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, নিহত আমিনের মরদেহ এলাকায় পৌঁছেছে এবং এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।