
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সমির উদ্দিন কলেজ মাঠে আনা হবে। পরে মরদেহ নিজ বাড়ি বড়বাড়ী গ্রামে নেওয়া হবে। বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজনকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। শনিবার সকালে তিনি কারাগার থেকে বালিয়াডাঙ্গীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
দবিরুল ইসলাম ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে। পরে ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয় লাভ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে তার পরিবারেরও ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তার বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। একই বছরের ৩ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।