
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত জলদস্যু এবং হত্যা মামলার মূল আসামি জমির উদ্দিন (৪০)কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃত জলদস্যু দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় এলাকায় ‘জমির বাহিনী’ নামে একটি জলদস্যু চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
৬ মে (বুধবার) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কুতুবদিয়ার পশ্চিম-দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে ‘এফবি আজুফা আক্তার মানু’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যুদের হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় জমির বাহিনীর সদস্যরা ট্রলারটি লক্ষ্য করে গুলি চালালে কুতুবদিয়ার জেলে শাহাদাত হোসেন খোকন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই জড়িত জলদস্যুদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কোস্ট গার্ড গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় গোপন অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
এরই অংশ হিসেবে ৬ মে (বুধবার) দুপুর ২টার দিকে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জমির বাহিনীর প্রধান এবং উক্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামি জমির উদ্দিনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তিনি আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করলেও কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতিতে পালাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে আটক জমির উদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনাদিয়া দ্বীপের প্যারাবন এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র জলদস্যুতা ও সাগরে চলাচলকারী জেলে ট্রলারগুলোতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হতো।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের লক্ষ্য করে হামলা, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুটপাট ছিল তার বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম।
বর্তমানে আটক জমির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, দেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জলদস্যুতা দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।