
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
মহেশখালীকে ইনসাফভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে এখানকার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মো. সুজা উদ্দিন।
২১ আগস্ট (শুক্রবার) বিকাল ৫টায় মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে আয়োজিত শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ও শহীদ তানবির সিদ্দিকীর স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সাঈদ মো. সুজা উদ্দিন বলেন, “মহেশখালী বাংলাদেশের লাইফলাইন। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের মানুষ নানা ক্ষেত্রে অবহেলিত ও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।”
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, নানা সমস্যা সমাধানের নামে মহেশখালীতে কোনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থা গড়ে উঠছে কি না, কিংবা মহেশখালীকে কার স্বার্থে ইজারা দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভাবতে হবে এবং প্রশ্ন তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালী প্রায়ই বিভিন্ন কারণে জাতীয় গণমাধ্যমের শিরোনামে আসে। কিন্তু এসব আলোচনা ও খবর প্রকাশের পরও সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলোর কতটুকু সমাধান হচ্ছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
মহেশখালীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এখানকার তরুণদের মতামত ও প্রত্যাশা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি বা সাংসদের দায়িত্ব হলো এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা শোনা এবং সেই অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা। কিন্তু বাস্তবে এই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া কতটুকু অনুসরণ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে আনতে হবে।
মহেশখালীর পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা পরিবেশকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা ও পরিবেশগত উদ্বেগ তুলে ধরছেন। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা কেন তাদের এসব আলোচনা ও পরামর্শ যথাযথভাবে শুনছেন না, সেটিও ভাবার বিষয়।
সবশেষে তিনি অধিকারভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত মহেশখালী গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।