1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের কঠোর বার্তায় মাদকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিরামপুর। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাঁচবিবিতে মাদকবিরোধী পোস্টের জেরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ। পুঠিয়ায় আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান। নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার এক আসামি গ্রেফতার। দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু। ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা মহেশখালীর পান চাষিরা, বাড়ছে ঋণের বোঝা মহেশখালীতে ৬০ শতাংশ পরিবার পান চাষের সঙ্গে জড়িত, ন্যায্যমূল্য ও সরকারি সহায়তার দাবি। চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ে গৃহবধূর আ/ত্ম/হ/ত্যার ঘটনার মামলায় স্বামী গ্রে/ফ/তার । শাহজাহানপুর তরুণ সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন শাহী হালিম জামতৈল। সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: মাছখোলা বাজারে দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা স্থাপন।

মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের কঠোর বার্তায় মাদকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিরামপুর।

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ৩৩ বার পঠিত

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী বিরামপুর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জোরালো অভিযান, মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের কঠোর অবস্থান এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি হয়েছে গণসচেতনতার নতুন জোয়ার। উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে একের পর এক মাদক প্রতিরোধ কমিটি গড়ে উঠছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন।

সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে গত ১ জুন থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। থানার তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত মাদক সংক্রান্ত ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৬২ জন আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

শুধু আইন প্রয়োগেই সীমাবদ্ধ না থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার বিভিন্ন হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে গিয়ে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করছেন এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ সাধারণ মানুষও মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে বিরামপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া, কাটলা ইউনিয়নের কাটলা বাজার, বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া মোড় এবং জোতবানি ইউনিয়নের কেটরাহাট এলাকায় পাঁচটি মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নিয়মিত নজরদারি পরিচালনা করছেন। এছাড়া পৌর শহরের মির্জাপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, “পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসায় সাধারণ জনগণ এখন মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের এই অংশগ্রহণ মাদক নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকের আগ্রাসন প্রতিহত করা সম্ভব।”

এদিকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাদক, নারী নির্যাতন ও শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, সমাজের মা-বোনদের মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর এই নির্দেশনা ও সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে বিরামপুরে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের অভিযান, জনপ্রতিনিধিদের দৃঢ় অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে বিরামপুরে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা এখন বাস্তব সম্ভাবনায় রূপ নিতে শুরু করেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রশাসন ও জনসাধারণের এই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বিরামপুরকে একটি মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park