
হারুন আহমেদ, গোয়াইনঘাট
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে হাওর অধ্যুষিত অঝোপাড়া গায়ের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত রাণীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন থেকে নতুন কোন ভবন তৈরি না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে ৩ শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর।শুরুতে স্থাপিত হওয়া ভবনের তিনটি রুমে গাদাগাদি করে চলে ৬ টি ক্লাসের শিক্ষা কার্যক্রম।স্টোর রুমের মত ছোট্ট একটি রুমে অফিস কক্ষ।বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক শিক্ষিকা থাকলেও শ্রেণীকক্ষ সংকটে ভোগান্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
চেঙের খাল নদীর তীরে জলকাঁদা মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়তে আসে শিক্ষার্থীরা।জায়গার সংকুলান না হওয়ায় দুজনের বেঞ্চে বসতে হয় চারজন শিক্ষার্থীকে। শব্দের কারণে ক্লাসে পুরাপুরি মনোযোগ দিতে পারে না শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়,অনলাইনে ভুল তথ্যের কারণে বিড়ম্বনার স্বীকার প্রতিষ্ঠানটি।বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কোন সুরাহা হচ্ছে না।উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ হলেও এই বিদ্যালয়ের অনলাইনে ভুল তথ্যের বিষয়টি মুছে দিয়ে নতুন ভবন পেতে একটু সময় লাগবে।
এদিকে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বছরের চার মাস পানিবন্দী অবস্থায় থাকে প্রতিষ্ঠানটি।বর্ষার শুরুতেই জলমগ্ন থাকে মাঠ।বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলেই বিদ্যালয়ের ভিতরে পানি প্রবেশ করে শ্রেণীকক্ষে হাঁটুর উপরে পানি থাকায় বন্ধ থাকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।নষ্ট হয় প্রতি বছর প্রয়োজনীয় কাগজ ও আসবাবপত্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বর্তমান বন্যার পানিতে বিদ্যালয় ভবনের অর্ধেক পানিতে নিমজ্জিত।মাঠে পানির উপর ভেসে বেড়াচ্ছে কুচুরিপানা। স্হানীয় ছেলেরা বিদ্যালয় মাঠে জাল টেনে মাছ মারছে। শিক্ষক শিক্ষিকারা এসে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় ঘুরাঘুরি করছেন,পাঠ দানের পরিবর্তে করছেন পানির পরিমাপ।কতটুকু পানি কমেছে, ক্লাস নিতে কয়দিন লাগবে। এমন করেই পার হয় তাদের বছরের চারমাস। ভয়ে থাকেন কোন শিক্ষার্থী না জেনে এসে পড়লে, বন্যার পানিতে কোন অঘটন না ঘটে।বিদ্যালয় খোলা না থাকলেও ক্লাস না নিলেও তাদের ডিউটির কোন বন্ধ নেই।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার মান ভাল। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকট ও বন্যার পানিতে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান ব্যাহত হয়। প্রতিটি ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসে।শিক্ষার্থীরা একটু দেরিতে ক্লাসে গেলে বসার জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়। তারা বলেন, আমাদের এলাকা দুর্যোগ ও বন্যা প্রবণ আমাদের গ্রামে শিশু কিশোর মিলে প্রায় তিন হাজার মানুষ বসবাস করে।বর্ষা আসলেই আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে ভয়ে থাকি।অন্যান্য ওয়ার্ডের মানুষ বন্যার সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয় আর আমাদের বিদ্যালয়টি তখন পানির নিচে থাকে।তাই আমাদের এখানে একটি নতুন ভবন হলে,বন্যার সময় এই এলাকার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চলবে শিক্ষকদেরও নানা মুখি সমস্যা দূর হবে।
রাণীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মো.রুকেল আহমদ জয় বলেন, স্কুল ভবন না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা অমানবিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল-বিল পার হয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অথচ স্কুলের নামে এক গ্রামবাসী জমি লিখে দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় স্কুলের ভবন না হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আলী জানান,বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে ও নতুন ভবন পাচ্ছিনা।বিদ্যালয়টি নদী বেষ্টিত হওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বহু কষ্টে আছি।আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বছরের চার মাস ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও খেলাধুলা। প্রতিবছর বন্যার পানিতে নষ্ট হয় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজ ও আসবাবপত্র।প্রতি বছরের ভোগান্তি ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ঘার্টতি পুরনে আমরা হিমশিম খাই।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন,অনলাইনে দেওয়া একটি ভুল তথ্যের কারনে আমরা ভবন পেতে সময় লাগছে।এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন দেওয়া আছে, আশা করি শীঘ্রই বিষয়টি সমাধান হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন,বর্তমান ভবনটি মূল মাটিতে নির্মাণ ও নিচু এলাকা হওয়ায় বন্যা হলেই প্লাবিত হয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান ক্রার্যকম বন্ধ হয়ে যায়।নতুন ভবনের জন্য উর্ধতন দপ্তরে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। আশা করি এই অর্থ বছরে আমরা নতুন একটি ভবন পেয়ে যাবো।তখন আর এই সমস্যা থাকবে না।