
মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার স্টাফ রিপোর্টার
আমরা বিশ্ব আজ প্রায় বিজ্ঞানের সকল বিষয়ের উপরই বিশ্বাস রেখে চলেছি কিন্তু আসলে কি সবই বিশ্বাস করার যোগ্য কি-না একটু ভেবে দেখুন। সেখানে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ পাকের দেওয়া হাজার হাজার বছর আগের তথ্য ইসলামের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তার প্রতি কতটুকু বিশ্বাস এবং প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সেই বিষয়ে আমাদের অবস্থানই বা কতটুকু! আপনি কি কখনো নিজের চোখে অ্যান্টার্কটিকা দেখেছেন? ব্ল্যাক হোল দেখেছেন? মহাকাশের গভীরতা মেপেছেন? না, দেখেননি। তবুও বিজ্ঞানীরা যখন বলেন “এটা আছে”, তখন আমরা বিনা প্রশ্নে মেনে নিই। কিন্তু আল্লাহ, ফেরেশতা, জান্নাত-জাহান্নামের কথা আসলেই কেন আমাদের মন থেকে প্রশ্ন জেগে ওঠে? এই প্রশ্নটাই আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সম্প্রতি নাসা আর্টেমিস মিশনের দাবি করেছে যে তারা চাঁদের কাছাকাছি গিয়ে ছবি তুলেছে। চাঁদের পেছনের অংশের ছবি বলে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা নিয়ে ইন্টারনেটে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওই চারজন নভোচারী ছাড়া আর কেউ কি নিজের চোখে তা দেখেছেন? কেউ কি স্বাধীনভাবে সেই ছবিগুলো যাচাই করার সুযোগ পেয়েছেন?
এখানেই আসল কথাটা বলা দরকার।
১৯৬৯ সালে যখন নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে যাওয়ার দাবি করলেন, তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে সন্দেহের ঢেউ উঠেছিল। বহু গবেষক, সাংবাদিক এমনকি বিজ্ঞানীরাও প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিলিস ডোনেভান থেকে শুরু করে বহু চলচ্চিত্র নির্মাতা দাবি করেছেন এটি ছিল একটি সাজানো নাটক, স্ট্যানলি কুব্রিকের মতো পরিচালকদের নাম পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছিল। নীল আর্মস্ট্রংকে বাইবেল ধরে শপথ করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকার করেছিলেন। এই একটি ঘটনাই সেদিন কোটি মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।
আর আজও সেই প্রশ্ন থামেনি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আকাশকে তিনি একটি সুরক্ষিত ছাদ হিসেবে তৈরি করেছেন। হাদিসের আলোকেও পৃথিবী এবং মহাকাশের যে চিত্র উঠে আসে, তা বিজ্ঞানের প্রচলিত দাবির সাথে অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। বিশ্বের বহু বিখ্যাত আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং এমনকি কিছু সাধারণ পাইলট ও নাবিকও বলেছেন যে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় পৃথিবীকে তারা সমতল এবং স্থিরই মনে হয়েছে। আমরা যখন বিমানে উড়ি, কম্পাসে দিক নির্ধারণ করি, সমুদ্রে জাহাজ চালাই, তখন পৃথিবীর বক্রতার হিসাব নয়, বরং সমতলের সূত্রেই সব হিসাব মেলে।
এখন আসুন একটু গভীরে ভাবি।
আপনি প্রতিদিন কত কিছু বিশ্বাস করছেন, যা আপনি নিজে দেখেননি। ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব, বিগ ব্যাং, কোয়ান্টাম ফিজিক্স, ডিএনএ’র গঠন, এসবের কোনোটাই কি আপনি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন? না। আপনি বিশ্বাস করেছেন কারণ কোনো একটি প্রতিষ্ঠান, কোনো একজন বিজ্ঞানী, বা কোনো একটি বই বলেছে।
তাহলে প্রশ্নটা হলো, বিশ্বাসের এই মানদণ্ড কেন ইসলামের বেলায় আলাদা হয়ে যায়?
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বললেন আল্লাহ আছেন, যখন বললেন ফেরেশতা আছেন, যখন জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বললেন, তখন তিনি কি শুধুই একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন? না। তিনি ছিলেন একজন প্রমাণিত সত্যবাদী, যাকে তাঁর শত্রুরাও “আল-আমিন” অর্থাৎ বিশ্বস্ত বলে ডাকত। যে মানুষটি চল্লিশ বছর একটিও মিথ্যা কথা বলেননি, তাঁর সাক্ষ্য কি নাসার বিবৃতির চেয়ে কম গ্রহণযোগ্য?
মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো বিনয়ের সাথে কিন্তু দৃঢ়তার সাথে প্রশ্ন করা। অন্ধের মতো কারো দাবি মেনে নেওয়া নয়, বরং প্রতিটি দাবিকে যুক্তি, প্রমাণ ও ওহীর আলোয় যাচাই করা। অমুসলিমরা ইসলামের প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলে, দলিল চায়, প্রমাণ চায়। এটা তাদের অধিকার। কিন্তু আমাদেরও সমান অধিকার আছে বিজ্ঞানের প্রতিটি দাবিকে একইভাবে যাচাই করার।
পরিপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কারো দাবিকে চোখ বুজে মেনে নেওয়ার নাম বিশ্বাস নয়, সেটা নির্বুদ্ধিতা। আর যখন প্রমাণ যাচাই করে, চিন্তা করে, বুঝে কেউ বিশ্বাস করে, সেটাই প্রকৃত ঈমান।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য বোঝার এবং সত্যের পথে টিকে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।