
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সহায়তার বিষয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিনাইল ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ইউনিয়ন মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। Community Safety Shield (CS2) Project, CHDP, LAMB-এর উদ্যোগে এবং LAMB Health-এর সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিনাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাদশা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন LAMB-এর টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর নিরঞ্জন বর্মন।
সভায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফেজ আলী ফকির, ইউপি সচিব,ইউপি সদস্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, সাংবাদিক, কৃষকসহ ইউনিয়ন মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় মানব পাচারের সংজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পাচারের ধরন, পাচারের সম্ভাব্য লক্ষণ, পাচারের পুশ ও পুল ফ্যাক্টর এবং মানব পাচারের বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও ধরন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রতারণা, প্রলোভন, জোর-জবরদস্তি, অপহরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কাউকে শোষণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ, পরিবহন, স্থানান্তর, আশ্রয় বা গ্রহণ করা মানব পাচারের অন্তর্ভুক্ত। যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম, আধুনিক দাসত্ব, জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি ও অঙ্গ পাচারসহ বিভিন্নভাবে মানুষ পাচারের শিকার হতে পারে।
সভায় বিশেষভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। সরকারি বা অনুমোদিত মাধ্যম ও বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি, চাকরির চুক্তিপত্র যাচাই, পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজের কাছে রাখা এবং ভিসার ধরন ও চাকরির তথ্য যাচাই করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি শনাক্ত হলে তার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ৯৯৯, ১০৯ ও ১০৯৮ নম্বরে সহায়তা চাওয়া, থানায় অভিযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, আইনি, মানসিক ও সামাজিক সহায়তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য One-stop Crisis Center (OCC)-এর মাধ্যমে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, মানসিক সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অচেনা ব্যক্তির প্রলোভন, অতিরিক্ত বেতনের অবাস্তব প্রতিশ্রুতি এবং সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মানব পাচার প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজের সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন পর্যায়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষ আরও সচেতন হবে এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হবে।