
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১১নং গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর ও আচিনঘাট এলাকার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁচ পীরের মাজার’ আজ চরম অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে। সঠিক সংরক্ষণ ও প্রচারের অভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছে এই আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক স্থানটি।
স্থানীয় প্রবীণ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে অত্র অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের লক্ষে এসেছিলেন এই পাঁচ জন ওলি বা পীর। তাদের স্মৃতিবিজড়িত মাজারগুলো যুগের পর যুগ ধরে এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধার স্থান হিসেবে পরিচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসনিপুর গ্রামের ভেতরে রয়েছে এই পীরদের মধ্য থেকে তিনটি পীরের মাজার বা কবর। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্তমানে মাজার প্রাঙ্গণটি ঝোপঝাড় ও বুনো আগাছায় ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে যে, এই মাজারের আশপাশে নাকি বহু প্রাচীন ধনসম্পদ বা গুপ্তধন লুকিয়ে রয়েছে। তবে এসব কথার কোনো ঐতিহাসিক বা বাস্তব ভিত্তি না থাকলেও স্থানটিকে ঘিরে লোকমুখে নানা অলৌকিক গল্প প্রচলিত রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি আজ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অন্যদিকে, মূল পাঁচ পীরের বাকি দুটি কবর রয়েছে নিকটস্থ আচিনঘাট মাদ্রাসার ভেতরে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির চত্বরে অবস্থিত হওয়ায় তুলনামূলকভাবে এই দুটি কবর নিরাপদ থাকলেও সেগুলোরও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরিচিতি সেভাবে তুলে ধরা হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশা, অত্র এলাকার প্রাচীন এই ঐতিহাসিক নিদর্শন ও আধ্যাত্মিক স্থানগুলো রক্ষা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো মহলের নজর নেই। তারা অবিলম্বে হাসনিপুরের তিনটি মাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সংস্কার এবং সামগ্রিকভাবে এই পাঁচ পীরের মাজার-এর সঠিক ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরার জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের বিশ্বাস, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে যদি স্থানটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয়, তবে এটি শুধু একটি দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান হিসেবেই গড়ে উঠবে না, বরং নতুন প্রজন্ম এই এলাকার প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।