
মাসুদ রানা,সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ‘আখড়াখোলা বাজার জামে মসজিদ’টি এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। মসজিদের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা বেতনা নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে এই ধর্মীয় উপাসনালয়টি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের দফায় দফায় জানিয়েও কোনো প্রতিকার না মেলায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে।
সরেজমিনে আখড়াখোলা বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেতনা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নদীর পাড় ক্রমাগত ভেঙে মসজিদের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। ভাঙন যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষা মৌসুম বা যেকোনো বড় জোয়ারের ধাক্কায় মসজিদটির একটি বড় অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কোটি টাকার এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বল্লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মহিতুর রহমান গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন:”অনেক অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে আমরা এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেছি। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এলাকার একটি অন্যতম সুন্দর স্থাপনা। নদী ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বিভাগীয় প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি, কথা বলেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তারা এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।”
স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কণ্ঠেও একই সুর। তারা জানান, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে মসজিদে নামাজ আদায় করতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুতই সরজমিনে ভাঙনকবলিত স্থানটি পরিদর্শন করব এবং মসজিদটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে পাউবোর শুধু মৌখিক আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। অনতিবিলম্বে বেতনা নদীর এই ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং পরবর্তীতে একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন বল্লী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।