
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ মহেশখালী উপজেলা শাখার আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৮ আগস্ট (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা বাজারস্থ শ্রী শ্রী করুনাময়ী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ মহেশখালী উপজেলা শাখার সভাপতি শ্রী আশীষ চন্দ্র দে’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাজু দে এর সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ মহেশখালী উপজেলা শাখার উপদেষ্টামণ্ডলী, সকল সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ মহেশখালী কলেজের সনাতনী ছাত্ররা উপস্থিত ছিল।
শ্রীকৃষ্ণের আদর্শে মানবিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়ে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, সত্য, ন্যায়, প্রেম, শান্তি ও মানবতার শিক্ষা আজও মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ ধারণ করে সমাজে সাম্য, সম্প্রীতি,ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় এটি সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণার দিন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী ও জীবনাদর্শ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে একটি সুন্দর,শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভায় আয়োজকরা জানান, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হবে।
এ উপলক্ষে মহেশখালী উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। হোয়ানক ইউনিয়নে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া মহেশখালী উপজেলা সদরেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে এবং দুপুর ২টা থেকে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে।
শোভাযাত্রাটি ছোট মহেশখালীর শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। পরে অতিথিদের অংশগ্রহণে ধর্মীয় আলোচনা সভা, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমীর সব কর্মসূচি সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।