1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
দুধের বদলে লবণ-পানি খাইয়ে অবুঝ সন্তানকে শান্ত রাখছেন হতভাগ্য মা - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি খেলাধুলায় মনোবল বাড়াতে জোড়া খাসি উপহার দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন মাস্টার নিয়োগের অপেক্ষায় ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকগণ, নেই নিয়োগের চুড়ান্ত ঘোষণা নেই, নিয়োগের বাঁধা কোথায়!

দুধের বদলে লবণ-পানি খাইয়ে অবুঝ সন্তানকে শান্ত রাখছেন হতভাগ্য মা

মোঃ বেলাল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৮ বার পঠিত

মোঃ বেলাল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জ।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বানিয়াগাঁতী সাহাপাড়ায় চার সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্বামীহারা জহুরা বেগম। পেটে ভাত নেই, গায়ে নেই উপযুক্ত কাপড়, আর অর্থাভাবে দুধের বদলে অবুঝ শিশুকে লবণ-পানি খাইয়ে শান্ত রাখতে হচ্ছে এই হতভাগ্য মাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জহুরা বেগমের স্বামী মরহুম ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ নলকা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর সুনামের সঙ্গে ইমামতি করেছেন। দুই বছর আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। স্বামীর মৃত্যুর পরই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন জহুরা বেগম।

বর্তমানে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে এবং স্থানীয়দের সাহায্য-সহযোগিতায় পাওয়া চাল দিয়ে চার সন্তানকে নিয়ে কোনোরকমে দিন পার করছেন তিনি। অনেক দিন তাদের চুলায় আগুনই জ্বলে না; কখনো শুধু ভাত আর লবণ দিয়েই মেটাতে হয় সন্তানদের পেটের ক্ষুধা।

পরিবারটির সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স মাত্র দুই বছর। অর্থাভাবে দুধ কেনার সামান্য সামর্থ্যও জহুরা বেগমের নেই। ক্ষুধার তাড়নায় শিশুটি যখন বারবার কান্নাকাটি করে, তখন নিরুপায় হয়ে কখনো কখনো টিউবওয়েলের পানি ও লবণ খাইয়ে তাকে শান্ত করতে হয়-এমনটিই জানান কান্নাজড়িত কণ্ঠে।

জানা যায়, স্বামী জীবিত থাকাকালীন প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ করে নলকা সেনগাঁতী গ্রামে সামান্য জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সেই ঋণের পাহাড়সম বোঝাও এখন একা বইতে হচ্ছে জহুরাকে। এদিকে চরম অনটনের কারণে বড় ছেলে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। মেজো ছেলে জিহাদ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে বড় আলেম হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও অভাবের নির্মম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজ প্রায় অনিশ্চিত।

প্রতিবেশীরা জানান, চার সন্তান নিয়ে জহুরা বেগমের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। স্থানীয়ভাবে কিছু সহযোগিতা করা হলেও তা দিয়ে ৫ সদস্যের এই পরিবারের নিত্যদিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

অসহায় ও এতিম শিশুগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে জহুরা বেগমের এই দুর্দিনে সমাজের বিত্তবান, দাতা ব্যক্তি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park