1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ-সংগ্রাম ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় নূর কায়েম সবুজ - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি খেলাধুলায় মনোবল বাড়াতে জোড়া খাসি উপহার দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন মাস্টার নিয়োগের অপেক্ষায় ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকগণ, নেই নিয়োগের চুড়ান্ত ঘোষণা নেই, নিয়োগের বাঁধা কোথায়!

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ-সংগ্রাম ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় নূর কায়েম সবুজ

মোঃ বেলাল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫১ বার পঠিত

মোঃ বেলাল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জ
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আসন্ন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর কায়েম সবুজ।

ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে যুবদল, শহর বিএনপি হয়ে জেলা বিএনপির নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে চান এই নেতা।

১৯৮৪ সালে এসএসসি পাসের পর সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন নূর কায়েম সবুজ।

রাজনীতির মাঠে সক্রিয়তার ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পান শহর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। এরপর শহর বিএনপির কাউন্সিলে দলীয় ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। টানা প্রায় আট বছর দায়িত্ব পালন করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

শহর বিএনপির দায়িত্ব পালনের পর জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন নূর কায়েম সবুজ। পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

দীর্ঘ এই রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করাকে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের দাবি, পদ-পদবির চেয়ে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

নূর কায়েম সবুজের দাবি, বিগত সরকারের সময় বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৪০টির বেশি রাজনৈতিক মামলা হয় এবং আন্দোলনকালে হামলারও শিকার হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি তাঁর। এসব মামলার প্রত্যেকটির আইনি অবস্থার স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।

নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী নূর কায়েম সবুজ। তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা দলের গোপন ইনফরমারের মাধ্যমে খবর নিলেও আমার কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি পাওয়া যাবে না।

কাউন্সিলকে সামনে রেখে নিজের প্রত্যাশার কথাও স্পষ্ট করেছেন নূর কায়েম সবুজ। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় জেলা বিএনপির কাউন্সিল না হওয়ায় তৃণমূলের অনেক যোগ্য ও ত্যাগী নেতা নেতৃত্বে আসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় দ্রুত কাউন্সিলের মাধ্যমে ত্যাগী নেতাদের সামনে এনে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত ও কাউন্সিলরদের ভোটই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

নূর কায়েম সবুজ বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেক নেতাই সামনের কাতারে আসতে চাইবেন। তবে একজন ত্যাগী, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাকে মূল্যায়ন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।

দলের নেতাকর্মীদের একাংশও নূর কায়েম সবুজের প্রার্থিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হবি বলেন, আমরা এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি চাই, যিনি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন এবং দলকে সুসংগঠিত করতে পারবেন। নূর কায়েম সবুজকে আমি বাল্যকাল থেকেই চিনি। তাঁর পরিবারও প্রতিষ্ঠিত। তিনি শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দলের জন্য নিবেদিত হতে পারবেন।

সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আব্দুল আলিম বলেন, বিএনপির মতো বড় একটি দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউন্সিল হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, নূর কায়েম সবুজ দীর্ঘদিন ছাত্রদল, শহর বিএনপি ও জেলা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থেকে নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, নূর কায়েম সবুজ রাজনীতিব ব্যবসায়ী নন; তিনি একজন প্রকৃত ব্যবসায়ী ও স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে জেলা বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফারুকের দাবি, বিগত বছরগুলোতে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি নূর কায়েম সবুজ তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার ও চাল বিতরণ এবং শীতার্তদের কম্বল দেওয়ার মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁকে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব সামনে এলে জেলার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও আরও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

আসন্ন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিল ঘিরে সাধারণ সম্পাদক পদে নূর কায়েম সবুজের প্রার্থিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ—এসব বিষয় সামনে রেখে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে জেলা বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্বের সমীকরণ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park