
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
“ধর্মীয় পরিবেশে টিকটকারদের বেপরোয়া আচরণ, ক্ষুব্ধ ভক্তরা”
কক্সবাজারের মহেশখালীর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তীর্থস্থান শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দিরে কিছু টিকটকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট নির্মাতাদের অশালীন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ বাড়ছে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে। পবিত্র এই মন্দির প্রাঙ্গণে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নাচ, আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি এবং ভিডিও ধারণের কারণে ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের পাশাপাশি টিকটকাররাও মন্দির এলাকায় ভিড় করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ধর্মীয় পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে টিকটক ও রিলস তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ মন্দিরের মূল ফটক, মূল সিঁড়ি, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় অশালীন ভঙ্গিতে ভিডিও ধারণ করছেন, যা ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। এতে পূজা দিতে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
স্থানীয় যুবক সমাজরা জানায়, মন্দির কমিটি’র কোন কার্যক্রম না থাকায় এসব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দির সংস্কার কমিটি’র পূনর্গঠনের মাধ্যমে একটি সুন্দর সার্বজনীন সংস্কারের দাবি জানান।
মন্দিরে আসা এক ভক্ত বলেন, “আদিনাথ মন্দির আমাদের সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা। এখানে এসে কেউ যদি টিকটকের জন্য অশালীন আচরণ করে, তা খুবই দুঃখজনক। এতে মন্দিরের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেকেই ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা ভুলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের একটি অংশ মন্দিরকে বিনোদনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে, যা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো, মন্দির কতৃপক্ষ থেকে মন্দির এলাকায় আচরণবিধি সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অশালীন কনটেন্ট নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড় দ্বীপ মহেশখালীর মৈনাক পাহাড়ে অবস্থিত শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দির ও তীর্থস্থান। প্রতিবছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে এখানে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে।