
শফিকুল ইসলাম, (বরিশাল) বাকেরগঞ্জঃ
চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এসে স্বস্তি তো দূরের কথা, বরং নতুন করে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা।এমনই এক করুণ বাস্তবতার নাম বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রোগীদের দীর্ঘ লাইন। কেউ মেঝেতে শুয়ে, কেউ করিডোরে বসে চিকিৎসার অপেক্ষায়। শয্যা সংকট এতটাই প্রকট যে, অনেক রোগীকেই মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে শুধু শারীরিক কষ্টই নয়, বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকিও।
হাসপাতালের ভেতরের চিত্র আরও ভয়াবহ। নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে পাখা ও লাইট দীর্ঘদিন ধরে বিকল। গরমে অতিষ্ঠ রোগীরা অসহনীয় পরিস্থিতিতে দিন পার করছেন। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ওয়ার্ড ডুবে যায় অন্ধকারে। জেনারেটর না থাকায় জরুরি মুহূর্তেও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।
একজন রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে এসে মনে হয় আমরা যেন কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে না, বরং অবহেলিত কোনো স্থানে আছি বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, অনেক টাকা খরচ হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছ এতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।
অন্যদিকে, গুরুতর রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করার ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট। তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দুইটি অকেজো। ফলে রোগীর স্বজনদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জন্য একমাত্র সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। ফলে অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল কিংবা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি রোগীর ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তাদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তার বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. শওকত আলী আশ্বাস দিয়ে বলেন, খুব দ্রুতই হাসপাতালের সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।
তবে বাস্তবতা বলছে, প্রতিদিনের এই দুর্ভোগের অবসান কবে হবে, তার অপেক্ষায়ই দিন গুনছেন বাকেরগঞ্জের সাধারণ মানুষ।