
স্টাফ রিপোর্ট মোঃ রাজু শেখ।
চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাস্তার ধারে কোরবানির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতা হচ্ছেন প্রান্তিক লোকজন।আর ক্রেতা হচ্ছেন নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা। যারা এই ঈদে কোরবানি দিতে পারেনি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে জবাই করা পশুর মাংস একদল মানুষ দিনব্যাপী সংগ্রহ করে অর্থ আয়ের আশায় রাস্তায় পাশে বসেই বিক্রি করে।এ সময় দেখা যায়, একদল মানুষ তাদের সংগ্রহ করা মাংস কেজি দরে কিনতে আসে কিন্তু দাম হয় ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করে ।
মাংস বিক্রি করতে বসা মনিরুল ইসলাম বলেন, সারাদিন মাংস সংগ্রহ করেছি। শুধু আমি না, আমার ঘরের অন্য সদস্যরাও মাংস সংগ্রহ করেছে।
আরো জানান আমাদের তো ফ্রিজ নেই, যতটুকু দরকার ততটুকু রেখে বাকি মাংস বিক্রি করে দিচ্ছি। এতে কিছু আয় হচ্ছে আবার অন্যরাও খেতে পারছে। তিনি বলেন, যেহেতু বিভিন্ন গরুর মাংস মিশানো আছে তাই দামটা কম। ৫০০শ’ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। আবার ভাগা বিক্রি করছি ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা করে। যার যেভাবে সুবিধা কিনতে পারছে এখান থেকে ।
শফিউল নামের একজন বিক্রেতা বলেন, আমরা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মাংস কিনে নিয়ে আবার কেজি হিসেবে বিক্রি করি। যারা সাধারণত কোরবানি দিতে পারেন না তারাই আমাদের কাছ থেকে ঈদের বিকেল থেকে রাতে মধ্যেই মাংস কিনে নিয়ে যান। কোরবানির মাংস কিনতে আসা
রিনা বেগম বলেন, ‘মানুষের বাসায় কাজ করি। কষ্ট করে সংসার চলে। আত্মীয় স্বজন এমন কেউ নেই যে কোরবানির মাংস দেবে। তাই এখান থেকে ৫০০ টাকা করে তিন কেজি মাংস কিনছি। অর্ধেকটি নিজে রাখবো আর অর্ধেকটি মেয়ের বাড়িতে দিবো।
কোরবানির পশু থেকে যে মাংস পাওয়া যায় তা তিন ভাগ করা হয়। এর একটি ভাগ নিজের জন্য রেখে বাকি দুই ভাগ আত্মীয়-স্বজন এবং গরিবদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়। যদিও এই ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রম করলে কোনো সমস্যা বিতরণ করা এসব মাংসের একটি অংশ কয়েক হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠছে ব্যবসার পণ্য।
যেমন গরু মাংস বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট, দেওয়ানহাট, মুরাদপুর কিংবা লিঙ্ক রোড—রাত বাড়ার সাথে সাথে জমে ওঠে এই অস্থায়ী বাজার। সাধারণ দিনের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে এখানে মিলছে গরু মাংস।
আপাতদৃষ্টিতে এটি মাংস কেনাবেচার বাজার মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত মানবিক সমীকরণ। একদিকে যেমন দরিদ্র সংগ্রাহক পরিবারগুলো পাচ্ছে টিকে থাকার রসদ, অন্যদিকে কোরবানি দিতে না পারা মানুষগুলো সাধ্যের মধ্যে মেটাতে পারছে উৎসবের স্বাদ। ত্যাগের উৎসবে মাংসের এই হাতবদল যেন সমাজের দুই শ্রেণির মানুষের ক্ষুধা আর আনন্দের এক মেলবন্ধন।