1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
কাগজে বন, বনের জায়গায় চিংড়িঘের, বিপন্ন মহেশখালীর সোনাদিয়া। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নারী পুরুষ সমান অধিকার না-কি বৈষম্য বিভেদ আর অশান্তির আস্তা কুড়ে ঘর। চারঘাটে সরকারি সেবাদানকারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সংলাপ অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ​দেবহাটায় জামায়াতের কর্মী ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত: সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব। দিরাই জারুলিয়া গ্রামে ১৪টি বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই,আনুমানিক ৪/৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না ডাইং কারখানার দূষণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন

কাগজে বন, বনের জায়গায় চিংড়িঘের, বিপন্ন মহেশখালীর সোনাদিয়া।

সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৫৫ বার পঠিত

সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: 

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে ভয়াবহভাবে উজাড় করা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বন। একসময় ঘন সবুজে আচ্ছাদিত দ্বীপটির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পরিণত হয়েছে চিংড়িঘেরে। বনভূমি কেটে নির্মাণ করা হয়েছে চার-পাঁচ ফুট উঁচু মাটির বাঁধ, বসানো হয়েছে অসংখ্য স্লুইস গেট। কাগজে-কলমে বনভূমি থাকলেও বাস্তবে ১০ হাজার একরেরও বেশি এলাকায় গড়ে উঠেছে চিংড়ি চাষের অবকাঠামো।

ড্রোন ফুটেজ, স্যাটেলাইট চিত্র এবং সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, হাজার হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও গাছের কাণ্ড পড়ে আছে, কোথাও শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। বনভূমির জায়গায় তৈরি হয়েছে লবণাক্ত পানি ধরে রাখার বিশাল চিংড়িঘের।

দেখে মনে হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপটি ধীরে ধীরে সাগরের বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আর উন্মোচিত হচ্ছে লালচে এক ভূখণ্ডের। যা এই দ্বীপে প্রতিনিয়ত ম্যানগ্রোভ বন নিধন ও পোড়ানোর সাক্ষ্য বহন করে। একসময় উপকূলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বনের বেষ্টনী ছিল। যা এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য। উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত একটি সরু খাল দ্বীপটিকে মহেশখালী থেকে পৃথক করেছে।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, কিছুদিন আগেও যে বিস্তৃত এলাকা ঢাকা ছিল ঘন ম্যানগ্রোভ বনে, এখন তার বিভিন্ন দিকে নির্মাণ করা হয়েছে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতার মাটির বাঁধ। গত পাঁচ বছরে সোনাদিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস হয়েছে। ফলে মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ সম্পদের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। একসময় যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকার মাছ ধরা যেত, এখন অনেক জেলের আয় নেমে এসেছে এক হাজার টাকারও নিচে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল ও দখলদার চক্রের কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে পরিবেশবিদদের মতে, সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন শুধু একটি বনভূমি নয়, এটি উপকূল রক্ষার প্রাকৃতিক ঢাল, সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র এবং হাজারো পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল।

স্থানীয় সচেতন মহলে দাবি, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সোনাদিয়ার অবশিষ্ট ম্যানগ্রোভ বনও বিলীন হয়ে যাবে। আর এর প্রভাব পড়বে পুরো উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার ওপর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park