1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
কাগজে বন, বনের জায়গায় চিংড়িঘের, বিপন্ন মহেশখালীর সোনাদিয়া। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাঁচবিবিতে মাদকবিরোধী পোস্টের জেরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ। পুঠিয়ায় আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান। নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার এক আসামি গ্রেফতার। দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু। ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা মহেশখালীর পান চাষিরা, বাড়ছে ঋণের বোঝা মহেশখালীতে ৬০ শতাংশ পরিবার পান চাষের সঙ্গে জড়িত, ন্যায্যমূল্য ও সরকারি সহায়তার দাবি। চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ে গৃহবধূর আ/ত্ম/হ/ত্যার ঘটনার মামলায় স্বামী গ্রে/ফ/তার । শাহজাহানপুর তরুণ সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন শাহী হালিম জামতৈল। সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সাংবাদিক মাসুদ রানা ও সোহাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: মাছখোলা বাজারে দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা স্থাপন।

কাগজে বন, বনের জায়গায় চিংড়িঘের, বিপন্ন মহেশখালীর সোনাদিয়া।

সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার পঠিত

সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: 

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে ভয়াবহভাবে উজাড় করা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বন। একসময় ঘন সবুজে আচ্ছাদিত দ্বীপটির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পরিণত হয়েছে চিংড়িঘেরে। বনভূমি কেটে নির্মাণ করা হয়েছে চার-পাঁচ ফুট উঁচু মাটির বাঁধ, বসানো হয়েছে অসংখ্য স্লুইস গেট। কাগজে-কলমে বনভূমি থাকলেও বাস্তবে ১০ হাজার একরেরও বেশি এলাকায় গড়ে উঠেছে চিংড়ি চাষের অবকাঠামো।

ড্রোন ফুটেজ, স্যাটেলাইট চিত্র এবং সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, হাজার হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও গাছের কাণ্ড পড়ে আছে, কোথাও শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। বনভূমির জায়গায় তৈরি হয়েছে লবণাক্ত পানি ধরে রাখার বিশাল চিংড়িঘের।

দেখে মনে হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপটি ধীরে ধীরে সাগরের বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আর উন্মোচিত হচ্ছে লালচে এক ভূখণ্ডের। যা এই দ্বীপে প্রতিনিয়ত ম্যানগ্রোভ বন নিধন ও পোড়ানোর সাক্ষ্য বহন করে। একসময় উপকূলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বনের বেষ্টনী ছিল। যা এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য। উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত একটি সরু খাল দ্বীপটিকে মহেশখালী থেকে পৃথক করেছে।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, কিছুদিন আগেও যে বিস্তৃত এলাকা ঢাকা ছিল ঘন ম্যানগ্রোভ বনে, এখন তার বিভিন্ন দিকে নির্মাণ করা হয়েছে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতার মাটির বাঁধ। গত পাঁচ বছরে সোনাদিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস হয়েছে। ফলে মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ সম্পদের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। একসময় যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকার মাছ ধরা যেত, এখন অনেক জেলের আয় নেমে এসেছে এক হাজার টাকারও নিচে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল ও দখলদার চক্রের কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে পরিবেশবিদদের মতে, সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন শুধু একটি বনভূমি নয়, এটি উপকূল রক্ষার প্রাকৃতিক ঢাল, সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র এবং হাজারো পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল।

স্থানীয় সচেতন মহলে দাবি, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সোনাদিয়ার অবশিষ্ট ম্যানগ্রোভ বনও বিলীন হয়ে যাবে। আর এর প্রভাব পড়বে পুরো উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার ওপর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park